Thursday 19 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের সাজে থাকুক নান্দনিক টিপ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৪

ঈদের সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন জামা, গয়না আর মেকআপের শেষ তুলির টানটি কিন্তু পড়ে কপালে একটি টিপ পরার মাধ্যমে। বিশেষ করে উৎসবের দিনটিতে শাড়ি হোক বা সালোয়ার-কামিজ, কপালে একটি সুন্দর টিপ না থাকলে যেন সাজটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই বাঙালির সাজে টিপের আবেদন এখনো কমে যাই নি।

এবারের ঈদেও অনেক তরুণীর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাতে তৈরি নান্দনিক ও বাহারি নকশার টিপ। বর্তমানে কালে কালে টিপের নকশা ও আকৃতিতে পরিবর্তন আসলেও, টিপের আবেদন কমেনি এতটুকু। বরং টিপের ছোঁয়া ছাড়া অপূর্ণই রয়ে যায় পুরো সাজের আয়োজন।

আভিজাত্যে যখন হাতে তৈরি টিপ

আধুনিকতার ছোঁয়া যে শুধু পোশাক কিংবা সাজে পরিবর্তন এনেছে তা কিন্তু নয়। টিপের নকশাতেও এসেছে ভিন্নতা, বৈচিত্র্য ও আধুনিকতার পরশ। তাইতো পোশাক শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ যাই হোক না কেন, অনুষঙ্গ হিসেবে টিপের সঙ্গ থাকা চাই।

বিজ্ঞাপন

এক দশক আগের টিপের ধরন গোলাকার, লম্বাটে, ডিম্বাকৃতি, কুমকুম বা চন্দনের ছোঁয়ায় হাতে আঁকা এসবই ছিল । যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিপেও এসেছে বৈচিত্র্য। এসেছে বড় টিপে বিভিন্ন রঙে আলপনা আঁকা, পাথরের কারুকাজ, বড় টিপে মেটাল নয়তো কাঠের বাহারি নকশার সমাহার। একটি টিপ কেটে অন্য টিপের ওপর বসিয়েও নকশায় আনা যায় ভিন্নতা। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে আবার কখনো পোশাকের রঙের সঙ্গে মিল না রেখেও টিপ হয়ে উঠছে সাজের মুখ্য উপাদান। শাড়ি, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, জিনস টপস সব পোশাকের সঙ্গেই টিপ মানানসই। একটি ছোট্ট টিপ নারীর সৌন্দর্য অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে অনায়াসেই।

বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ প্লাস্টিক বা পাথরের টিপের চেয়ে এখন হাতে আঁকা বা ম্যাটেরিয়ালের কাজ করা টিপের চাহিদা তুঙ্গে। সুতি কাপড়, সিল্ক, কাঠ, এমনকি মাটি বা মেটালের ওপর নিপুণ কারুকার্যে তৈরি হচ্ছে এসব টিপ। কোনোটিতে ফুটে উঠছে রিকশা পেইন্ট, কোনোটিতে আল্পনা, আবার কোনোটিতে ছোট ছোট পুঁতি বা আয়নার কারুকাজ।

ধানমন্ডির এক বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অর্নি বলেন, ‘এখন বাজারে অনেক দামি গয়না পাওয়া যায়, কিন্তু কপালে যদি একটু ভিন্নধর্মী হাতে তৈরি টিপ থাকে, তবে পুরো লুকটাই বদলে যায়। আমি এবার আমার জামার সাথে মিলিয়ে ফ্লোরাল মোটিফের হাতে আঁকা টিপ কিনেছি।’

কেন বাড়ছে এই টিপের চাহিদা?

তরুণীদের মাঝে এই নান্দনিক টিপের চাহিদা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ লক্ষ্য করা গেছে:

* অনন্যতা: হাতে তৈরি হওয়ায় প্রতিটি টিপই অন্যটির চেয়ে আলাদা।

* পোশাকের সাথে সামঞ্জস্য: ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি বা হ্যান্ড পেইন্ট করা পোশাকের সাথে এই টিপগুলো চমৎকার মানিয়ে যায়।

* সাংস্কৃতিক সংযোগ: এর নকশায় লোকজ মোটিফ ও দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে, যা আধুনিক তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

ঈদের সাজে টিপ যখন সৌন্দর্যের মূলমন্ত্র

টিপ শুধু একটি ছোট বিন্দু নয়, এটি চেহারার স্নিগ্ধতা বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ। ঈদের সাজে কীভাবে টিপ ব্যবহার করবেন, তার কিছু পরামর্শ:

* শাড়ির সাথে বড় টিপ: আপনি যদি ঈদের দিন শাড়ি পরেন, তবে মাঝারিতে বড় গোল বা ওভাল আকৃতির নকশা করা টিপ বেছে নিতে পারেন। এটি আপনার চেহারায় একটি রাজকীয় আভিজাত্য নিয়ে আসবে।

* ফিউশন লুকে ছোট টিপ: সালোয়ার কামিজ বা কুর্তির সাথে চিকন নকশার বা ছোট আয়নার কাজ করা টিপ পরলে তা বেশ ট্রেন্ডি দেখায়।

* রঙের খেলা: পোশাকের রঙের বিপরীত রঙের টিপ পরলে তা কপালে ফুটে ওঠে বেশি। যেমন- সাদা পোশাকের সাথে লাল বা গাঢ় নীল রঙের হাতে আঁকা টিপ।

অনলাইন শপ থেকে শুরু করে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে এখন মিলছে বাহারি টিপ। আগে টিপকে কেবল সাধারণ প্রসাধনী মনে করা হতো, কিন্তু এখন একে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। একটি হাতে আঁকা টিপের পাতার দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, তবুও এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জন্য আগ্রহ কমছে না ক্রেতাদের।

পরিশেষ

ঈদের খুশিতে নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে হাতে তৈরি একটি নান্দনিক টিপই হতে পারে আপনার শ্রেষ্ঠ অনুষঙ্গ। ছোট্ট এই টিপটি কেবল আপনার সাজই পূর্ণ করবে না, বরং আপনার রুচিবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসাকেও ফুটিয়ে তুলবে।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি