২৬শে মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। স্বাধীনতার এই উৎসবে লাল-সবুজ কেবল দুটি রঙ নয়, বরং এক গভীর দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। রোদ-গরমের এই সময়ে আরাম আর আভিজাত্যের মেলবন্ধনে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে এই বিশেষ ফিচার।
লাল-সবুজের চিরন্তন শাড়ি
বাঙালির যে কোনো উৎসবে শাড়ির আবেদন সবসময়ই অন্যরকম। ২৬শে মার্চের সাজে সুতি, কোটা বা খাদি শাড়ি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে গাঢ় সবুজ শাড়ির সঙ্গে লাল পাড় অথবা লাল জমিনে সবুজ আঁচলের শাড়িগুলো দেখতে দারুণ লাগে। বর্তমানে ব্লক প্রিন্ট, টাই-ডাই এবং স্ক্রিন প্রিন্টের শাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের নানা মোটিফ ফুটে উঠছে। যারা একটু ভিন্নতা চান, তারা সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল-সবুজ কম্বিনেশনের ব্লাউজ পরতে পারেন।
চুলের সাজ : শাড়ির সাথে চুলের সাজ হতে হবে মার্জিত ও রাজকীয়। স্বাধীনতা দিবসের সকালে যদি বাইরে বের হন, তবে চুলগুলো হাতখোঁপা করে নিতে পারেন। খোঁপায় একটি বড় লাল গোলাপ অথবা সাদা বেলির মালা জড়িয়ে নিলে তা দেখতে বেশ স্নিগ্ধ লাগে। যারা চুল ছেড়ে রাখতে পছন্দ করেন, তারা একপাশে ক্লিপ দিয়ে আটকে অন্যপাশে তাজা ফুল গুঁজতে পারেন। সাজে পূর্ণতা আনতে কপালে একটি বড় লাল টিপ আর চোখে কাজলের ছোঁয়া রাখতে ভুলবেন না।
সালোয়ার কামিজে আধুনিকতার ছোঁয়া
তরুণীদের কাছে উৎসবের দিনে সালোয়ার কামিজ সবসময়ই পছন্দের শীর্ষে থাকে। এবারের স্বাধীনতা দিবসে লং কামিজের পাশাপাশি ফ্রক স্টাইল বা এ-লাইন কাটের কামিজ বেশ চলছে। একদম সাদা কামিজের সঙ্গে লাল-সবুজের বাটিক বা টাই-ডাই করা ওড়না পরলে লুকে এক ধরণের স্নিগ্ধতা আসে। সুতি কাপড়ের ওপর ছোট ছোট ব্লকের কাজ করা সালোয়ার কামিজ এই গরমে আপনাকে প্রশান্তি দেবে।
চুলের স্টাইল : সালোয়ার কামিজের সাথে চুলের সাজে কিছুটা আধুনিক ও চঞ্চল ভাব রাখা যায়। এক্ষেত্রে ‘ফ্রেঞ্চ বিনুনি’ বা উল্টো বিনুনি করে তাতে ছোট ছোট ফুল গুঁজে দিলে বেশ ভালো দেখায়। এ ছাড়া চুলে হালকা কার্ল করে হাফ-আপ হেয়ারস্টাইল বা ঝরনা স্টাইলে চুল বেঁধে রাখলেও তা কামিজের সাথে বেশ মানানসই। যারা বেশি সময় বাইরে থাকবেন, তারা একটি উঁচু পনিটেইল করতে পারেন, যা গরমেও আরাম দেবে আবার দেখতেও স্মার্ট লাগবে।
ফতুয়ায় আরামদায়ক উৎসব
যারা একদম ক্যাজুয়াল থাকতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ফতুয়া একটি চমৎকার বিকল্প। শর্ট বা সেমি-লং ফতুয়া জিন্স বা লেগিংসের সঙ্গে অনায়াসে মানিয়ে যায়। ফতুয়ার বুকে বা পকেটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের জলছাপ বা ছোট ছোট হাতের কাজ করা মোটিফ এখনকার ফ্যাশন ট্রেন্ড। ফতুয়া পরলে সাথে কানে ছোট মাটির দুল বা হাতে কাঠের চুড়ি পরলে সাজটি বেশ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে ওঠে।
চুলের সাজ : যেহেতু ফতুয়া একটি ক্যাজুয়াল পোশাক, তাই এর সাথে চুলের সাজ হওয়া চাই একদম হালকা ও সাবলীল। ফতুয়ার সাথে মেসি বান (Messy Bun) বা অগোছালো খোঁপা খুব ভালো মানায়। এ ছাড়া শুধু একটি রঙিন ব্যান্ড বা স্কার্ফ দিয়ে চুলগুলো বেঁধে নিলে বেশ ‘বোহেমিয়ান’ একটি লুক আসে। ছোট চুলে স্টাইলিশ হেয়ার ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। ফতুয়ার সাথে চুল একদম খোলা রেখে দুই কানের পাশ দিয়ে টুইস্ট করে পেছনে আটকে দিলেও দেখতে চমৎকার লাগে।
স্বস্তিদায়ক মেকআপ
২৬শে মার্চ সাধারণত বেশ রোদ ও গরম থাকে। তাই এই দিনে মেকআপ হতে হবে একদম হালকা এবং ওয়াটারপ্রুফ বা ঘামরোধী। দিনের বেলা বের হলে অবশ্যই ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ভারি ফাউন্ডেশনের বদলে বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক নিঃশ্বাস নিতে পারবে এবং সাজটিও ন্যাচারাল দেখাবে। গরমে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ঘাম এবং তেলতেলে ভাব; তাই ফেস পাউডার বা কম্প্যাক্ট পাউডার দিয়ে মেকআপ ভালো করে সেট করে নিন।
সাজের মূল আকর্ষণ রাখুন চোখে। গরমে আইলাইনার বা মাসকারা অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ ব্যবহার করবেন, নাহলে ঘামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোখের সাজে হালকা সবুজ বা ব্রাউন শেড ব্যবহার করতে পারেন, আর চোখের নিচে কাজল বা আইলাইনার দিয়ে একটি চিকন লাইন টেনে নিতে পারেন। এই দিনে ঠোঁটের সাজে হালকা ম্যাট লিপস্টিক বেশি মানানসই। লালের বিভিন্ন শেড, যেমন কোরাল, টেরাকোটা বা হালকা মেরুন রঙ বেছে নিতে পারেন। তবে যদি চোখের সাজ ভারি হয়, তাহলে ঠোঁটের সাজ হালকা রাখবেন। আর দিনশেষে ব্যাগে অবশ্যই ফেস মিস্ট এবং ওয়েট টিস্যু রাখবেন, যাতে গরমে বারবার মুখ মুছে ফ্রেশ হওয়া যায়।
ছেলেদের আভিজাত্যে পাঞ্জাবি ও ফতুয়া
ছেলেরা এই দিনে সুতি বা খাদির পাঞ্জাবি বেছে নিতে পারেন। সাদা, লাল বা সবুজ রঙের পাঞ্জাবিতে এখন নানা ধরনের জ্যামিতিক নকশা বা ক্যালিগ্রাফির কাজ দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার সাদা পাঞ্জাবির ওপর একটি লাল-সবুজ কোটি বা ওয়েস্টকোট চাপিয়ে নেন। যারা একটু হালকা মেজাজে দিনটি কাটাতে চান, তারা ফতুয়া বেছে নিতে পারেন। খাদি বা হ্যান্ডলুমের তৈরি ফতুয়াগুলো জিন্স বা গ্যাবার্ডিন প্যান্টের সঙ্গে পরলে বেশ মানানসই লাগে।
স্বাধীনতা দিবসের এই সাজ যেন কেবল লোকদেখানো না হয়, বরং পোশাকের প্রতিটি সুতায় যেন আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা মিশে থাকে।