ফিটনেস জার্নি শুরু করার পর আমাদের অবচেতন মন সারাক্ষণই একটা হিসেব খোঁজে, ওজন কতটুকু কমল? এই উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই প্রতিদিন একাধিকবার ওজন মাপার মেশিনে দাঁড়ান। তবে পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস ট্রেইনারদের মতে, কেবল ওজন মাপলেই হয় না, তার জন্য ঘড়ির কাঁটার দিকেও নজর রাখা জরুরি। ভুল সময়ে নেয়া রিডিং আপনাকে শুধু হতাশই করবে।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্সের মতে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আমাদের দেহের ভর নানা কারণে ওঠানামা করে। তাই এলোমেলো সময়ে ওজন মাপলে অগ্রগতির আসল চিত্র পাওয়া যায় না।
যেসব মুহূর্তে ওজন মাপা একদমই উচিত নয়
ভারী খাবারের ঠিক পর: ভরপেট খাওয়ার পর স্কেলে দাঁড়ালে ওজন বেশি আসবেই। এটি আপনার শরীরের চর্বি বাড়ার প্রমাণ নয়, বরং পেটে থাকা খাবারের নিজস্ব ওজন মাত্র।
ওয়ার্কআউট বা ব্যায়াম শেষে: ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করার পর নিজেকে হালকা লাগতে পারে। এ সময় স্কেলে ওজন কম দেখালেও তা চর্বি কমার জন্য নয়, কেবল শরীর থেকে তরল বা পানি বের হয়ে যাওয়ার কারণে হয়।
নারীদের মাসিক বা পিরিয়ডের দিনগুলো: পিরিয়ডের সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে শরীরে ‘ওয়াটার রিটেনশন’ হয় বা পানি জমে। ফলে সাময়িকভাবে ওজন কয়েক কেজি বেশি দেখাতে পারে, যা পিরিয়ড শেষে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।
অ্যালকোহল পানের পর: মদ্যপান বা অ্যালকোহল শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে। এই বিশৃঙ্খল অবস্থায় ওজন মাপলে তা ভুয়ো রিডিং দেয়।
অতিরিক্ত সোডিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পর: আপনি যদি বেশি লবণাক্ত খাবার বা প্রচুর শর্করা (যেমন- বিরিয়ানি, ফাস্টফুড) খান, তবে শরীর অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে। ফলে চর্বি না বাড়লেও স্কেলের কাঁটা ওপরের দিকে উঠে যায়।
সারাদিনে যখন-তখন: সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত একজন মানুষের ওজন প্রাকৃতিকভাবেই ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে।
ওজন মাপার সবচেয়ে নিখুঁত সময় কোনটি?
বিজ্ঞানসম্মতভাবে ওজন মাপার সর্বোত্তম সময় হলো, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, খালি পেটে এবং টয়লেট বা বাথরুমের কাজ সারার পর। এ সময় রাতের দীর্ঘ বিরতির পর শরীর সবচেয়ে শান্ত ও স্থিতিশীল থাকে। ফলে এটিই আপনার দেহের প্রকৃত ওজনের সঠিক মানদণ্ড বা ‘বেসলাইন’ দেয়।
এছাড়া নির্ভুল তথ্যের জন্য ওজন নেওয়ার সময় নিচের টিপসগুলো মাথায় রাখতে পারেন…
প্রতিদিন একই সময়ে মাপুন।
হালকা এবং একই ধরনের পোশাক পরে স্কেলে দাঁড়ান।
সমতল শক্ত মেঝেতে ওয়েইং স্কেলটি রাখুন।