সকালের নাস্তায় ওমলেট কিংবা সেদ্ধ ডিম ছাড়া আমাদের অনেকেরই চলে না। ডিম খাওয়ার পর অবহেলায় খোসাটি আমরা ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি? অবহেলায় ফেলে দেয়া সেই ভঙ্গুর খোসাটিই হতে পারে আমাদের ঘরের সবচেয়ে নান্দনিক শোপিস? শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও শিল্পমনা মানুষের কাছে ডিমের খোসা এখন ঘর সাজানোর অন্যতম শৌখিন অনুষঙ্গ। সামান্য ধৈর্য আর সৃজনশীলতা থাকলে এই ফেলনা জিনিসটিই আপনার বসার ঘরের কোণ কিংবা পড়ার টেবিলকে করে তুলতে পারে অনন্য। পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘর সাজানোর এই পদ্ধতিটি বর্তমানে বিশ্বজুড়েই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ভঙ্গুর আবরণে শিল্পের ছোঁয়া
ডিমের খোসাকে শোপিসে রূপান্তর করার প্রথম ধাপ হলো এর ভেতরটা খুব সাবধানে পরিষ্কার করা। সাধারণত ডিমের এক প্রান্তে ছোট ছিদ্র করে কুসুম ও সাদা অংশ বের করে নিতে হয়। এরপর কুসুম গরম পানি ও ভিনেগার মিশ্রিত তরল দিয়ে খোসার ভেতরটা ধুয়ে শুকিয়ে নিলেই সেটি ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এই সাদা বা বাদামী রঙের মসৃণ তলে এক্রাইলিক রঙ দিয়ে আপনি ফুটিয়ে তুলতে পারেন মিনিয়েচার পেইন্টিং। কেউ কেউ আবার খোসার ওপর সূক্ষ্ম নকশা খোদাই করে তৈরি করেন ‘এগশেল কার্ভিং’, যা দেখতে অনেকটা দামি সিরামিকের শো-পিসের মতো মনে হয়। ছোট একটি কাঠের স্ট্যান্ডের ওপর রঙ করা এই ডিমগুলো সাজিয়ে রাখলে তা অনায়াসেই যে কারো নজর কাড়বে।
সবুজের আবরণ ডিমের খোসায়
আধুনিক অন্দরসজ্জায় ইনডোর প্ল্যান্টের চাহিদা আকাশচুম্বী। তবে জায়গার অভাবে অনেকেই বড় টব রাখতে পারেন না। এক্ষেত্রে ডিমের খোসা হতে পারে চমৎকার ‘মিনি প্ল্যান্টার’। ডিমের খোসার অর্ধেকটা ব্যবহার করে তাতে সামান্য মাটি দিয়ে মানিপ্ল্যান্ট বা সাকুলেন্ট জাতীয় ছোট গাছ লাগানো যায়। এই ছোট ছোট প্রাকৃতিক শোপিসগুলো জানালার পাশে কিংবা ডাইনিং টেবিলে একটি ট্রের ওপর সাজিয়ে রাখলে ঘরে এক ধরণের স্নিগ্ধ আবেশ তৈরি হয়। এটি কেবল ঘরই সাজায় না, বরং পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের টবের বিকল্প হিসেবেও কাজ করে। আবার ডিমের খোসায় ক্যালসিয়াম থাকায় এটি গাছের বৃদ্ধিতেও পরোক্ষভাবে সহায়তা করে।
আলো-ছায়ার মায়াবী খেলা
ঘরকে রোমান্টিক বা মায়াবী রূপ দিতে মোমবাতির জুড়ি নেই। বাজারের সাধারণ মোমদানির বদলে ডিমের খোসা ব্যবহার করে আপনি তৈরি করতে পারেন ‘এগশেল ক্যান্ডেল’। আস্ত ডিমের খোসার ভেতর গলানো মোম ঢেলে তার মাঝে সলতে বসিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যায় চমৎকার টি-লাইট ক্যান্ডেল। খোসার বাইরের অংশে যদি সোনালী বা রূপালী রঙের ছোঁয়া থাকে, তবে মোম জ্বালানোর পর সেই আলোর প্রতিফলন ঘরকে এক রাজকীয় আভিজাত্য দান করে। উৎসবের রাতে কিংবা ডিনার টেবিলে এই শোপিসগুলো আভিজাত্যের নতুন মাত্রা যোগ করে।
সৃজনশীলতায় সাশ্রয়ী ঘর সাজানো
ঘর সাজানো মানেই দামী আসবাব বা শোপিস নয়; বরং নিজের হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ করে তোলা। ডিমের খোসা দিয়ে তৈরি এই ঘর সাজানোর উপকরণগুলো একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে আপনার রুচির পরিচয় বহন করে। ছুটির দিনে পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে এ ধরণের ক্রাফটিং হতে পারে দারুণ এক বিনোদন। সামান্য রঙ আর তুলির আঁচড়ে একটি সাধারণ ডিমের খোসা যখন শোপিস হয়ে আপনার শোকেসে জায়গা করে নেয়, তখন সেই তৃপ্তি বাজার থেকে কেনা কোনো জিনিসের চেয়ে অনেক বেশি। তাই আগামীর সকালের নাস্তার পর ডিমের খোসাটি ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন, হয়তো এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে আপনার ঘরের পরবর্তী সেরা আকর্ষণটি।