Saturday 19 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

তীব্র গরমে পারফিউম নাকি আতর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৯ মে ২০২৬ ১৫:৩৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গ্রীষ্মের তাপে অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি আর গুমোট আবহাওয়ার কারণে পছন্দের সুবাসও শরীর থেকে দ্রুত উবে যায়। সকালে যে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, দুপুরের আগেই তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। এই গরমে নিজেকে দীর্ঘক্ষণ সুবাসিত রাখতে আতর নাকি পারফিউম, কোনটি বেশি কার্যকর?

আসুন জেনে নেই তীব্র গরমে এই দুই সুগন্ধির কার্যকারিতা ও স্থায়ীত্বের পার্থক্য…

প্রাকৃতিক নির্যাস বনাম আধুনিক রসায়ন

আতর হলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও তেল-ভিত্তিক একটি সুগন্ধি। এটি সাধারণত বিভিন্ন ফুল, লতাপাতা, চন্দন বা আগর কাঠের নির্যাস থেকে তৈরি করা হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আতরে কোনো ধরনের অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয় না। তেল-ভিত্তিক হওয়ায় এটি ত্বকের ছিদ্রে বসে যায় এবং ধীরে ধীরে সুবাস ছড়াতে থাকে। বহু যুগ ধরে আমাদের উপমহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, আধুনিক পারফিউম মূলত অ্যালকোহল-ভিত্তিক হয়ে থাকে। অ্যালকোহল থাকার কারণে পারফিউম স্প্রে করার সাথে সাথেই এর সুবাস চারদিকে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি সতেজ অনুভূতি দেয়। পারফিউমে সুগন্ধি তেলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে একে ও-দ্য-কোলন, ও-দ্য-টোয়ালেট কিংবা ও-দ্য-পারফিউম—এই বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।

স্থায়িত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ সুগন্ধ ধরে রাখার দৌড়ে পারফিউমের চেয়ে আতর অনেকটাই এগিয়ে। পারফিউমের অ্যালকোহল রোদের উত্তাপে এবং শরীরের ঘামের সংস্পর্শে এসে খুব দ্রুত বাতাসে মিলিয়ে যায়। বিশেষ করে লেবু বা ফলের গন্ধযুক্ত (সাইট্রাস ও ফ্রুটি) হালকা পারফিউমগুলো গরমে একদমই টিকতে পারে না।

এর বিপরীতে, আতরের তেল ত্বকের নিজস্ব উষ্ণতার সাথে মিশে গিয়ে দীর্ঘসময় সুবাস ছড়ায়। একটি ভালো মানের আতর ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে টিকে থাকতে পারে। এমনকি কাপড়ে ব্যবহার করলে ধোয়ার পরও এর হালকা সুবাস থেকে যায়। তাই গরমের দিনের জন্য আতরই বেশি নির্ভরযোগ্য।

সুবাস দীর্ঘস্থায়ী করার সঠিক কৌশল

যে সুগন্ধিই ব্যবহার করুন না কেন, তা ধরে রাখার জন্য কিছু নিয়ম জানা জরুরি…

সঠিক স্থান নির্বাচন: গোসলের পর শরীর যখন পরিষ্কার থাকে, তখন সুগন্ধি ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। শরীরের পালস পয়েন্ট বা নাড়ির স্পন্দন বোঝা যায় এমন জায়গা—যেমন কবজি, গলার দুপাশ, কানের লতির পেছনে এবং কনুইয়ের ভেতরের অংশে সুগন্ধি লাগান।

ঘষাঘষি না করা: অনেকেই কবজিতে পারফিউম বা আতর লাগিয়ে দুই হাত দিয়ে ঘষে নেন। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। ঘষার ফলে সুগন্ধির ভেতরের সূক্ষ্ম কণাগুলো ভেঙে যায়, ফলে সুবাস দ্রুত হারিয়ে যায়।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: সুগন্ধি ব্যবহারের আগে ত্বকে সুগন্ধহীন (Unscented) কোনো লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে নিলে সুবাস অনেক বেশি সময় স্থায়ী হয়।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো