Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বৃষ্টির দিনে সম্পর্কের রি-স্টার্ট

ফারহানা নীলা
১৩ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৪

ছবি: সংগৃহীত

বাইরে তখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামছে। জানলার কাঁচে জলের ফোঁটারা যেন কোনো এক চেনা সুরের পিয়ানো বাজাচ্ছে। শহরের ব্যস্ত রাজপথ নিমেষেই রূপ নিয়েছে জলমগ্ন এক নদীর, যেখানে থমকে গেছে চাকার গতি। ঠিক তখনই ঘরের ভেতরে, নাগরিক কোলাহল থেকে বহুদূরে, এক জোড়া চায়ের মগ থেকে আলতো করে ধোঁয়া উড়ছে। ল্যাপটপের কাজের তাড়া কিংবা মেজাজ বিগড়ে দেওয়া ট্রাফিক জ্যামের গল্পগুলো এই মুহূর্তে উধাও। কেবল থেকে গেছে বৃষ্টির একটানা নূপুরধ্বনি আর মুখোমুখি বসা দুজন মানুষ। বর্ষার এমন একটা অলস মেঘলা দিন আসলে শুধু ভোগান্তির নয়, যান্ত্রিক জীবনের আড়ালে ধুলো জমা সম্পর্কে নতুন করে বসন্ত আনার মোক্ষম এক সুযোগ।

বিজ্ঞাপন

কড়া চায়ের কাপে মেঘের মেঘবন্ধনী

বৃষ্টির দিনে বারান্দার চেয়ে বড় কোনো থিয়েটার হল আর হতে পারে না। ঘরের কোণের ছোট্ট বারান্দাটাকেই এই মেঘলা দিনে বানিয়ে নেওয়া যায় সেরা ডেট স্পট। মৃদু আলো জ্বেলে, এক মগ ধোঁয়া ওঠা কড়া লিকার বা এলাচ দেওয়া দুধ চা নিয়ে পাশাপাশি বসার আনন্দই আলাদা। ফোনের স্ক্রিনের নীল আলো নেভাতে হবে সবার আগে। বৃষ্টির শব্দের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিককে সঙ্গী করে দুজনে মিলে শুরু করা যায় কিছু না বলা কথা। প্রতিদিনের তাড়াহুড়োয় আমরা একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতেই ভুলে যাই, আর বৃষ্টি আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া সময়টা উপহার দেয়। স্রেফ হাতটা ধরে কোনো কথা না বলে বৃষ্টির ছাঁট গায়ে মাখাও এক ধরণের অদ্ভুত মানসিক শান্তি, যা সম্পর্কের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।

হেঁশেলের খুনসুটি ও যুগল খিচুড়ি

বাঙালি আর বৃষ্টি মানেই অবধারিতভাবে খিচুড়ি আর ডিম ভাজার চিরন্তন রসায়ন। তবে এই রান্নার আনন্দটা একা কেন, রান্নাঘরটা হোক দুজনের একটা ছোট্ট খেলার মাঠ। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল আসা কিংবা তেলের কড়াইয়ে আলুর টুকরো ছাড়ার সময় ভয় পাওয়ার খুনসুটিগুলোই সম্পর্ককে প্রানবন্ত করে তোলে। একসঙ্গে সবজি কাটাকুটি করা, মসলা কষানোর সুবাসে পুরো ঘর ম ম করে ওঠা এবং রান্নার ফাঁকে আলতো খুনসুটি সম্পর্কের বোঝাপড়াকে আরও মজবুত করে। একসঙ্গে রান্না করা মানে কেবল পেট ভরানো নয়, এটি আসলে যৌথ জীবনের একটা সুন্দর কোলাবরেশন। বৃষ্টির দিনে ধোঁয়া ওঠা ভুনা খিচুড়ির প্লেট যখন টেবিলে আসে, তখন বাইরের সব বিষণ্ণতা ঢাকা পড়ে যায় তৃপ্তির হাসিতে।

ইনডোর মুভি ম্যারাথন ও পুরনো দিনের গান

বাইরে যখন বৃষ্টির কারণে বের হওয়া সম্পূর্ণ বারণ, তখন ঘরের ভেতরেই তৈরি হতে পারে এক সিনেমাটিক জগত। দুজনে মিলে কম্বলের ওমে বসে পছন্দের কোনো ক্লাসিক সিনেমা বা রোমান্টিক সিরিজ দেখার মজাই আলাদা। অথবা পুরোনো দিনের বৃষ্টির গানের একটা প্লে-লিস্ট ছেড়ে দিয়ে মেঝের ওপর বসে থাকা। সুরের তালে তালে দুজনে ফিরে যাওয়া যায় জীবনের সেই প্রথম দেখা হওয়ার দিনগুলোতে। বৃষ্টির একটা নিজস্ব সুর আছে, যা মনের পুরনো কোণগুলোকে নাড়া দেয়। একসাথে বসে পুরনো অ্যালবামের ছবি দেখা কিংবা প্রিয় কোনো গান গুনগুন করা নিমিষেই মন ভালো করে দেয়, যা যেকোনো দামি রেস্তোরাঁর ডেটের চেয়েও অনেক বেশি রোমান্টিক।

বাইরে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, জানলার কাঁচের জল গড়িয়ে পড়ে নিচের জলমগ্ন পিচঢালা রাস্তায়। কিন্তু ঘরের ভেতরের সেই উষ্ণতা আর কমে না। মগের চা শেষ হয়ে এলেও মনের ভেতরের জমানো কথাদের রেশ থেকে যায় বহুদূর। ব্যস্ত শহর আবার কাল সকালে চেনা ছন্দে ফিরবে, রাজপথে গাড়ির হর্ন বাজবে, কিন্তু এই একটা মেঘলা দিন দু জোড়া চোখে রেখে যায় আজীবন মনে রাখার মতো এক পশলা সোনালী স্মৃতি। আর সম্পর্কটায় যুক্ত হয় আরোও কিছু মিষ্টি ক্ষণ।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন