তীব্র গরমে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারানো আর নিস্তেজ হয়ে পড়া বেশ সাধারণ সমস্যা। অতিরিক্ত ঘাম, তেল আর ধুলাবালির কারণে এই সময়ে ব্রণ বা ত্বকের নানা প্রদাহও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ত্বককে তাৎক্ষণিক ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে দারুণ কাজ করে হলুদের আইস কিউব।
কেন বেছে নেবেন হলুদের আইস কিউব?
ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহার নতুন নয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory) উপাদান, যা ত্বকের অ্যালার্জি ও জ্বালাপোড়া কমায়। তবে কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বকে লাগালে অনেক সময় অ্যালার্জি, লালচে ভাব বা হলুদ ছোপ থেকে যায়।
তাই সরাসরি হলুদ না মেখে তা দিয়ে ‘আইস কিউব’ বানিয়ে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমে বাইরে থেকে ফিরে মুখ ধুয়ে এই আইস কিউব ব্যবহারে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ত্বক টানটান হয় এবং ক্লান্ত ভাব নিমেষেই দূর হয়। সেই সঙ্গে হলুদের গুণাগুণ ব্রণপ্রবণ ত্বকের প্রদাহ কমাতে ও দাগছোপ হালকা করতে সাহায্য করে।
উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী অত্যন্ত সহজ। বাড়িতেই যেভাবে বানাবেন…
উপকরণ
১ কাপ পরিষ্কার পানি, ১/৪ চা-চামচ কাঁচা হলুদ বাটা এবং ১ চা-চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল (ঐচ্ছিক)।
প্রস্তুত প্রণালী: পানির মধ্যে হলুদ বাটা ও অ্যালোভেরা জেল খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার আইস ট্রে-তে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। কয়েক ঘণ্টা পর জমে গেলেই তৈরি আপনার ‘হলুদ বরফ’।
ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
প্রথমে মেকআপ বা ধুলাবালি থেকে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন।
সরাসরি বরফ মুখে না ঘষে একটি পরিষ্কার পাতলা সুতি কাপড়ে কিউবটি পেঁচিয়ে নিন।
হালকা হাতে পুরো মুখে ২ থেকে ৩ মিনিট গোল গোল করে (Circular motion) আলতোভাবে ঘুরিয়ে নিন।
চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত বরফ ঘষা থেকে বিরত থাকুন।
বরফ ব্যবহারের পর মুখ শুকিয়ে গেলে ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
সতর্কতা
সবাই প্রাকৃতিক উপাদান একইভাবে সহ্য করতে পারেন না। তাই সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া জরুরি। আর ত্বকে দীর্ঘদিনের ব্রণ বা গভীর কোনো সমস্যা থাকলে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যত্ন নেওয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।