আমাদের কিছুই হলো না—
একটা ভোরও জাগেনি আমাদের নামে,
কোনো সূর্য ওঠেনি
আমাদের অপেক্ষার আকাশে।
শিশিরভেজা ঘাসের ওপর
নরম পায়ে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া,
আঙুলে আঙুল রেখে
নিঃশব্দে পৃথিবীটাকে অন্যরকম করে দেখা—
সেই সকালটা
কখনো আমাদের দরজায় কড়া নাড়েনি।
কোনো নির্জন বিকেলও হলো না—
নদীর ধারে মুখোমুখি বসে
তোমার চোখের গভীরে
নিজেকে হারিয়ে ফেলার মতো কোনো মুহূর্ত,
যেখানে সময় থেমে যেতো
শুধু আমাদের দুজনকে ঘিরে।
নদী বয়ে গেছে নিজের মতো,
বাতাস কেঁপেছে নিঃসঙ্গ সুরে,
সূর্য ডুবেছে রক্তিম বিষণ্নতায়—
শুধু আমরা বসিনি সেখানে,
আমাদের কোনো রাতও ছিল না—
যে রাতে কথারা জেগে উঠতো,
গল্পের পর গল্প খুলে যেতো
মনের গভীর আলমারি থেকে।
অন্ধকারের ভেতর আলো জ্বালিয়ে
ভালোবাসা একটু একটু করে উষ্ণ হতো—
সেই রাতগুলো
শুধুই কল্পনায় থেকে গেছে।
কোনো দীর্ঘ রাত জেগে
তোমার কণ্ঠে স্বপ্ন শোনা হয়নি,
কোনো ভোর আসেনি
দুজনের ক্লান্ত অথচ তৃপ্ত নিঃশ্বাসে।
ঘুম ভাঙেনি ভালোবাসার নরম স্পর্শে—
সবই থেকে গেছে
অপ্রকাশিত এক সম্ভাবনায়।
আমাদের কোনো স্মৃতি নেই—
কোনো ছবি নেই,
কোনো স্পর্শ নেই,
কোনো অভিমান, কোনো মান-ভাঙা নেই।
তবু কোথাও এক অদৃশ্য জীবনে
আমরা বেঁচে আছি—
হয়তো হেঁটেছিলাম পাশাপাশি,
হয়তো বসেছিলাম নদীর ধারে,
হয়তো এক রাত জেগেছিলাম
গল্প আর ভালোবাসার ভেতর ডুবে।
তাই আজও মনে হয়—
আমাদের কিছুই হলো না,
তবু এই না-হওয়া ভালোবাসাটাই
অদ্ভুতভাবে
সবচেয়ে বেশি রয়ে গেছে,
সবচেয়ে গভীরে,
সবচেয়ে নীরবে—
হৃদয়ের এমন এক কোণে,
যেখানে স্পর্শ না থাকলেও
ব্যথাটা সত্যি হয়ে বেঁচে আছে।