Sunday 11 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মুতার প্রান্তরে ইতিহাসের এক অসম যুদ্ধ

সানজিদা যুথী
২০ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইসলামের ইতিহাসে বীরত্ব আর আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়—মুতার যুদ্ধ।

অষ্টম হিজরীতে, বর্তমান জর্ডানের মুতায় সংঘটিত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ। মাত্র ৩ হাজার মুসলিম সৈন্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় ২ লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনী— যার মধ্যে ছিল রোমান সাম্রাজ্যের সেনা এবং আরব খ্রিস্টান মিত্রবাহিনী।

এই যুদ্ধের সূচনা হয় একটি মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হারিস ইবনে ওমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বসরার গভর্নরের কাছে পাঠান। কিন্তু পথে গাসসান গোত্রের শাসক সুরাখ বিল ইবনে আমর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩ হাজার সাহাবীর একটি বাহিনী প্রস্তুত করেন। তিনি তিনজন সেনাপতি নির্ধারণ করে দেন— জায়েদ বিন হারিসা, জাফর বিন আবু তালিব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমেই শহীদ হন সেনাপতি যায়েদ বিন হারিসা। এরপর পতাকা তুলে নেন জাফর বিন আবু তালিব। প্রবল লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবুও তিনি পতাকা আঁকড়ে ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনিও শাহাদাত বরণ করেন।

এরপর নেতৃত্ব দেন আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। তিনি সৈন্যদের ঈমানি শক্তিতে উজ্জীবিত করেন এবং বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেন।

তিন সেনাপতির শাহাদাতের পর যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই সেনাপতিত্ব গ্রহণ করেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার অসাধারণ সামরিক কৌশল ও বীরত্বে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। প্রবল লড়াইয়ে তার হাতে একের পর এক ভেঙে যায় নয়টি তলোয়ার। শেষ পর্যন্ত কৌশলে তিনি মুসলিম বাহিনীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

খালিদ বিন ওয়ালিদের এই অসাধারণ সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপাধি দেন— ‘সাইফুল্লাহ’, অর্থাৎ আল্লাহর তরবারি।

মুতার যুদ্ধ আমাদের শেখায়— সংখ্যা নয়, ঈমান, সাহস আর ত্যাগই ইতিহাস তৈরি করে।

সারাবাংলা/এসজে/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন