
চাকসুর ভিপি রনি-জিএস হাবীব-এজিএস আইয়ুবুর রহমান।
চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডাকসু-জাকসুর পর এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনেও বড় ধরনের জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে চার দশক পর চাকসুতে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে শিবিরের। অন্যদিকে ফলাফল ঘোষণার শুরুতে আশা জাগালেও শেষপর্যন্ত বিশাল ব্যবধানে ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদলের।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) শেষরাতে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চাকসুতে মোট ২৬ পদের মধ্যে এজিএস ও সহ-খেলাধুলা সম্পাদক বাদে ২৪ পদে শিবির জয়ী হয়েছে। চাকসুর মোট ২১টি সম্পাদকীয় পদের ১৯টিতেই জিতেছে শিবির। পাঁচটি নির্বাহী সদস্য পদের সবগুলোতে তারা জয় পেয়েছে।
শুধুমাত্র এজিএস পদটিই দখল করতে পেরেছে ছাত্রদল। আর সহ-খেলাধূলা সম্পাদক পদটি পেয়েছে বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য নামে একটি প্যানেলের প্রার্থী।
চাকসু নির্বাচনে অতীশ দীপঙ্কর হলের ভোটের ফলাফলে ভিপি-জিএস উভয় পদে ছাত্রদলের প্রার্থী এগিয়ে আছেন। ভিপি পদে ছাত্রদলের প্রার্থী সাজ্জাত হোসেন হৃদয় ২২৩ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম রনি পেয়েছেন ৯০ ভোট। সমপরিমাণ ৯০ ভোট পেয়েছেন বামধারার বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেলের ধ্রুব বড়ুয়াও।
জিএস পদে ছাত্রদলের মো. শাফায়েত হোসেন পেয়েছেন ১৬৪ ভোট। ছাত্রশিবিরের সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ৮৩ ভোট।
এজিএস পদে ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ২৬৬ ও ছাত্রশিবিরের সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৪৫ ভোট।
এ নিয়ে দুটি হল ও একটি হোস্টেলের ফল ঘোষণা করা হলো। এগুলোতে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাত পেয়েছেন ৪০৮ ভোট। শিবিরের ইব্রাহীম রনি পেয়েছেন ২৪৭ ভোট।
আর জিএস পদে ছাত্রদলের শাফায়েত পেয়েছেন ২৪১ ভোট। আর ছাত্রশিবিরের হাবিব পেয়েছেন ২৮৬ ভোট।

মাস্টারদা সূর্য সেন হল। ফাইল ছবি
চাকসু নির্বাচনে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ভিপি পদে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী এগিয়ে আছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাত হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ১৪১ ভোট। এ পদে ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ১৩০ ভোট।
জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ১৭৫ ভোট। এ পদে ছাত্রদলের শাফায়েত হোসেন পেয়েছেন ৫৩ ভোট। নির্বাচন কমিশনের সচিব অধ্যাপক আরিফুল হক সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।
এদিকে সূর্য সেন হল সংসদে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন মো. তাজিম ইবনে হাবিব। আর জিএস পদে জয় পেয়েছেন সাদমান আল তাছিন। শাখাওয়াত হোসেন বিজয়ী হয়েছেন এজিএস পদে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ভিপি পদে ছাত্রদলের প্রার্থী এবং জিএস পদে বামধারার বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী এগিয়ে আছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চাকসুর নির্বাচন কমিশনার ও সদস্য সচিব এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, হোস্টেল সংসদে ১৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ১২৪ জন ভোট দিয়েছেন। এতে ভিপি পদে ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ৩৪, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ইব্রাহিম হোসেন রনি ২৭ ও বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেলের ধ্রুব বড়ুয়া ২৬ ভোট পেয়েছেন।
আর জিএস পদে বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেলের সুদর্শন চাকমা ২৯ ভোট, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলর সাঈদ বিন হাবিব ২৮ ভোট ও ছাত্রদলের শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ২৪ ভোট।

চাকসু নির্বাচনে ভোট গণনা চলছে। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনা চলছে। গণনা শেষ ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন পার্থী ও ভোটাররা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল সোয়া পাঁচটা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।
চাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পাঁচটি অনুষদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলো অনুষদ ভবনেই ভোট গণনার ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। তবে ফলাফল প্রকাশের সঠিক সময় জানা যায়নি।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আমির মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভোট গণনা চলছে। এখনই ফলাফল প্রকাশের সঠিক সময় জানা যাচ্ছে না। তবে আমরা আশা করছি আজ রাতেই ফলাফল প্রকাশ করতে পারব।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ‘নির্বাচন কমিশনাররা’ ৩৫ বছর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনকে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে কলঙ্কিত অধ্যায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও অসহায়ত্ব দেখিয়েছেন, দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা মনে করি, উনাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন এলইডি স্ক্রিন থাকবে। কিন্তু আমরা দেখলাম বিভিন্ন কেন্দ্রে এলইডি স্ক্রিন বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমরা দেখেছি যেখানে অন্য প্রার্থীরা ঢুকতে পারেননি, সেখানে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থার প্রার্থীরা গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। আমরা বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও নির্বাচন কমিশনার ব্যবস্থা নেননি।’

‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’র সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে প্রশাসনের উদ্দেশ্যমূলক গাফেলতির সুযোগ নিয়ে জাল ভোটের সন্দেহ করছেন সুফিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্যানেল ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে তদন্তের দাবি জানান এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ফরহাদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ভবনের ২১৪ নম্বর কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরবিহীন ২০টি ব্যালট পেপার বাক্সে প্রবেশ করানো হয়েছে। দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানানোসহ মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরও প্রশাসন কোনোধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, পানি দিলেই মুছে যাচ্ছে অমোচনীয় কালি। এটা প্রশাসনের উদ্দেশ্যমূলক গাফিলতি। অনেকের মতো আমরাও বিষয়টি জাল ভোটকাণ্ডে ব্যবহার হওয়ার সমূহ আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’
তবে ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচন ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল বর্জন করছে না বলে জানান ফরহাদুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়েছে। ভোট গণনার সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের এলইডি স্ক্রিন ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আপাতত ভোট গণনা বন্ধ রেখেছেন নির্বাচনের কর্মকর্তারা।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় এলইডি স্ক্রিন বন্ধ হয়। তবে এলইডি স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার পরেও কোনোরকম অনিয়ম হয়নি বলে জানিয়েছেন ভিতরে থালা পোলিং এজেন্টরা।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় এলইডি বন্ধ হয়েছে। বন্ধ থাকার সময় ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে।’

চাকসু ভবনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। ছবি: সারাবাংলা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে বহিরাগতদের ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। সেইসঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে চাকসু ভবনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের প্রার্থীরা এ অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. ইব্রাহীম হোসেন রনি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে ছাত্রদলের আলাওল হলের জিএস প্রার্থীসহ অনেকের সঙ্গে বহিরাগতদের দেখা গেছে। অথচ পরিচয়পত্র ছাড়া কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের কথা নয়। প্রশাসন বহিরাগতদের আটকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করার পরও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনি পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন।

বিকেল ৪টায় ভোটের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কেন্দ্রে ভোটার থাকায় ভোটগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচন কমিশন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনে ১৮টি হল ও একটি হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের ভোট চলছে। প্রায় প্রত্যেকটি ভবনে লাইনে দাঁড়নো ভোটার দেখা গেছে। তবে সকালের চেয়ে ভিড় অনেক কমে এসেছে।
চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, বিকেল ৪টার মধ্যে নির্বাচনি চৌহদ্দির মধ্যে কেউ থাকলে ভোট নেওয়া হবে। তার ভ্যাষ্য, ‘ধীর গতিতে হোক আর যাই হোক; আমরা বলেছি, ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে যদি থাকে— যতক্ষণ পর্যন্ত ভোট নিতে হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ভোট নেব।’
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটের সময় পার হওয়ার পরও ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে চাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল।