
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তারা ইরানের ওপর চলমান হামলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আরাগচি বলেছেন, পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানি জনগণের সাহায্যে এবং একটি সমাধান খুঁজে বের করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
আরাগচি জানান, ইরান ও বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর (পি৫+১) মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় রাশিয়া বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাশিয়া সবসময় ইরানের পাশে ছিল এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইরান ও তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা এই অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য বড় চিন্তার কারণ। রাশিয়াও এই উদ্বেগে অংশীদার।’ তিনি জানান, রাশিয়ার অবস্থান বেশ শক্ত ও সঠিক, এবং তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে তারা বাধা পাচ্ছে।
আরাগচি মনে করেন, নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিছু করা উচিত।
ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক অনেক গভীর ও ঐতিহাসিক, এবং সাম্প্রতিক সময়ে এটি কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি রাশিয়ার প্রশংসা করে বলেছেন, পরমাণু চুক্তি তৈরিতে রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করেছে। রাশিয়া বর্তমানে ইরানের বুশেহরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে।
আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা করার জন্য রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক আগ্রাসনের কারণে বর্তমানে উত্তেজনা বাড়ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।
পুতিনও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এই হামলাগুলো অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক অনেক ভালো এবং নির্ভরযোগ্য।