ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর লাইভ র্যাংকিংয়ে ঢাকার অবস্থান ফের অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, ১৬৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের পঞ্চম সর্বাধিক দূষিত শহরের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নাম।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তানের কাবুল (৪২৯), এরপর ভারতের কলকাতা (২৮৮) ও দিল্লি (২৪৮), আর চতুর্থ স্থানে রয়েছে মিসরের কায়রো (১৭২)।
এই পরিসংখ্যান শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়, এটি ঢাকাবাসীর প্রতিদিনের শ্বাস নেওয়ার সংগ্রামের প্রতিফলন। ঢাকা একদিকে উন্নয়নশীল মেগাসিটি, অন্যদিকে পরিবেশগত ঝুঁকির এক উন্মুক্ত পরীক্ষাগার। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, বহুতল ভবন— উন্নয়নের এই চিত্রের আড়ালেই প্রতিদিন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণ ধুলা। অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণস্থলে পানি ছিটানো, ঢেকে রাখা বা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণের মতো ন্যূনতম নিয়ম মানা হয় না।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, ঢাকার বায়ুদূষণের একটি বড় অংশই মানবসৃষ্ট এবং তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং নিয়ম প্রয়োগে দুর্বলতা।
বায়ুদূষণের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো, এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় বোঝা যায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি শিশুদের ফুসফুসের বিকাশ ব্যাহত করে। এছাড়া, প্রবীণদের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি করে। শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াটা এখন নিয়মিত চিত্র।
চিকিৎসকেরা বলছেন, দূষিত বাতাসে নিয়মিত শ্বাস নেওয়া যেন ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর। বরং, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে হলে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি—
- ইটভাটাগুলোকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর
- নির্মাণকাজে কঠোর পরিবেশগত বিধি বাস্তবায়ন
- পুরোনো ও দূষণকারী যানবাহন ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া
- গণপরিবহন ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো
- নগরজুড়ে সবুজায়ন ও খোলা জায়গা সংরক্ষণ