পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী নদনদীর বিস্তীর্ণ বালুচর এখন ভূমিহীন কৃষকদের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠেছে। শীতকাল থেকে বর্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত এসব চরে পেঁয়াজ, রসুন, বোরো ধান, বাদাম ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। তবে কৃষি সহায়তার অভাব এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এই সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার করতোয়া, মহানন্দা, চাওয়াই, ডাহুক, বেরং, তালমা ও ছোট যমুনাসহ প্রায় ৫৪টি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ বালুচরে মৌসুমি স্বল্পকালীন ফসলের আবাদ হচ্ছে। তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে পঞ্চগড় সদর হয়ে দেবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদীপথজুড়ে এই আবাদে যুক্ত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক ভূমিহীন মানুষ।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্ষায় নদীর পানির সঙ্গে আসা পলিতে বালুচর উর্বর হয়ে ওঠে। সেই জমিতে উচ্চফলনশীল পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, বোরো ধানসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। অনেকে এই চরের ফসল বিক্রি করেই সারা বছর সংসার চালান।
দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা এলাকার ধুলাঝাড়ি ঘাটের কৃষক নুর মোহাম্মদ, মাসুদ ও অলিয়ার রহমান জানান, কয়েক বছর ধরে করতোয়া নদীর বালুচরে পেঁয়াজ, রসুন ও বোরো ধানের আবাদ করছেন তারা। তাদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করলে তিন মাস পর প্রায় ৬০ হাজার টাকার ফসল পাওয়া যায়। নদীর চরের এই আবাদই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস।
তবে ভূমিহীন কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তারা তেমন কোনো সহায়তা বা পরামর্শ পান না। সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচিতে ভূমিহীন ও বর্গাচাষি কৃষকেরা সাধারণত অন্তর্ভুক্ত হন না।
তাদের আরও অভিযোগ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষিকাজের জন্য সম্পূরক সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে অবৈধভাবে নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নদীভাঙন বাড়ছে এবং চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন এ বিষয়ে বলেন, ‘২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলার অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদন হয়েছে। সমন্বিত কৃষি কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের প্রণোদনা ও বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’