বেনাপোল: যশোরসহ দেশের সাত জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে যশোরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বত্র রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
যশোরে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে বিশেষ করে ভোর, সকাল ও রাতের সময় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বেনাপোল বন্দরের প্রায় চার হাজার শ্রমিক চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
শ্রমিকরা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিতে হলেও তাদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। এখনো সরকারি বা বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, শীত থেকে রক্ষা পেতে কম্বল ও গরম পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। অনেক নিম্নআয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে, যা শৈত্যপ্রবাহের প্রধান কারণ। এ ছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এদিকে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের এই সময়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।