পঞ্চগড়: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র শীত ও কনকনে হিমশীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে গতকাল থেকে তা নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রির ঘরে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার।
এর আগের দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
একটানা কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা শীতের তীব্রতায় কাজ করতে পারছেন না। ফলে আয় কমে যাওয়ায় শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের রাত কাটছে অসহনীয় দুর্ভোগে। শীতের প্রতিটি রাত যেন তাদের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক এই বৈরী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন অসহায় মানুষজন।
এদিকে তীব্র শীত ও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরাও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন সকাল ও সন্ধ্যার পর কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।