বাগেরহাট: বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম স্থান অধিকার করেছে রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত এ প্ল্যান্ট গত নভেম্বরে ৭০০ মিলিয়ন এবং ডিসেম্বরে ৬৪০ মিলিয়ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যা দেশের যে কোনও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে সর্বোচ্চ মাসিক উৎপাদন।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসের উৎপাদনের হিসেবে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) মধ্যেও প্রথম।
মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার কোম্পানিটি দেশের মোট ৫,৫৩১ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১১.৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রেকর্ড করা সাফল্য।
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মহা- ব্যবস্থাপক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৮,০০,০০০ টন কয়লা খালাস করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রায় ২০০,০০০ টন কয়লার মজুত রয়েছে, যা আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আওতায় নির্মিত, মৈত্রী প্রকল্পটি আমদানি করা কয়লা ব্যবহার করে ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্গমন কমাতে অতি-সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
এর পরিবেশগত সুরক্ষার মধ্যে রয়েছে ফ্লু-গ্যাস ডি সালফারাইজেশন ইউনিট, ইলেক্ট্রো স্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর, একটি ২৭৫-মিটার চিমনি, ক্লোজড-সাইকেল কুলিং এবং একটি শূন্য-তরল-স্রাব ব্যবস্থা। আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরতা সত্ত্বেও, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকার, ধারাবাহিক কর্মক্ষমতা এবং শক্তিশালী জ্বালানি সরবরাহ জাতীয় গ্রিডে কম খরচে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে চলেছে, যা শিল্প কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারী জানান, শীত মৌসুমে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। তাই উৎপাদনও কম হয়েছে, কিন্তু আমরাই জাতীয় গ্রিডে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি।