রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আবার পিছিয়ে দিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। কারণ, অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা।
উপাচার্য বলেন, ‘নতুন করে প্রধান কমিশনার নিয়োগের জন্য সিন্ডিকেট সভার অনুমতি প্রয়োজন। সেহেতু সিন্ডিকেট সভা না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক মাসুদ রানা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করবেন।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা কাল (সোমবার) নির্বাচন কমিশনাররা বসে ভোটার তালিকার আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন ২৫ ফেব্রুয়ারি করার জন্য তফসিল পুনর্গঠন করব।’
এর আগে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন হয়েছে- প্রথমে ২৯ ডিসেম্বর, পরে ২৪ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু ভোটার তালিকার ত্রুটি, প্রধান কমিশনারের পদত্যাগ এবং অন্যান্য জটিলতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বার বার ভোট পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, উপাচার্য আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রামের পরই ব্রাকসু নির্বাচন হবে। কিন্তু ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে, অথচ বেরোবিতে এখনো অনিশ্চয়তা।
এদিকে শিক্ষার্থীরা এটিকে প্রশাসনের অদক্ষতা ও ইচ্ছাকৃত দেরি বলে অভিহিত করছেন। গত ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে অবস্থান কর্মসূচি করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন; কিন্তু বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে হাস্যরসের সঙ্গে ক্ষোভ মিশে গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০০৮ সাল থেকে এটি প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। কিন্তু ভোটার তালিকার ত্রুটি, কমিশনারের পদত্যাগ এবং এখন শিক্ষকদের অনীহা প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে। উপাচার্য আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন কমিশনের অধীনে প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই দেরি তাদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে এবং তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান।