Saturday 17 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ৩৩০ ‘দুষ্কৃতকারীকে’ নিষিদ্ধ করল সিএমপি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৭ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতিকারীর’ নামে তালিকা প্রকাশ করে তাদের মহানগরী এলাকা থেকে বহিষ্কার এবং প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নগর পুলিশ। এদের অধিকাংশই সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ (এমপি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী। এছাড়া কারাবন্দি ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী এবং কয়েকজন পেশাদার অপরাধীর নামও তালিকায় রয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ শাখা থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি এবং ৩৩০ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অবস্থানরত ৩৩০ জন দুষ্কৃতিকারীকে মহানগরী এলাকা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দুষ্কৃতিকারী দলের সদস্যদের চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় প্রবেশ এবং অবস্থান নিষিদ্ধ করা হলো।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের মোবাইলে একাধিককার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে যৌথবাহিনী।
এর আগে, চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে প্রেসক্লাবের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সিএমপির তালিকায় উল্লিখিত ‘দুষ্কৃতিকারীদের’ মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, নোমান আল মাহমুদ ও মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বাচ্চু। এদের মধ্যে ফজলে করিম ও লতিফ বর্তমানে কারাগারে আছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে যাদের নাম আছে- মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, আব্দুল কাদের প্রকাশ মাছ কাদের, নুর মোস্তফা টিনু, শৈবাল দাশ সুমন, গাজী শফিউল আজম, মো. শাহেদ ইকবাল বাবু, শফিকুল ইসলাম, এসরারুল হক, মোহাম্মদ কাজী নুরুল আমিন, এম আশরাফুল আলম, মোবারক আলী, মোরশেদ আলম, জহরুল আলম জসিম, নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, মোহাম্মদ ইসমাইল, নুরুল আমিন, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, হাজী মো. হারুন উর রশীদ, নূরুল আলম, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মোহাম্মদ সলিম উল্ল্যাহ, মোহাম্মদ জাবেদ, নাজমুল হক ডিউক, আব্দুস সবুর লিটন, মো. ইলিয়াছ, শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, গোলাম মো. জোবায়ের, আতাউল্লা চৌধুরী, আবদুস সালাম, জহরলাল হাজারী্, হাসান মুরাদ বিপ্লব, পুলক খাস্তগীর, হাজী নুরুল হক, মোর্শেদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল বারেক, আসলাম প্রকাশ ডাকাত আসলাম ও ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী।

কাউন্সিলরদের মধ্যে তালিকায় নাম থাকা আতাউল্লাহ সম্প্রতি মারা গেছেন। বাকিদের অধিকাংশই বর্তমানে পলাতক আছেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান নাহিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, দেবাশীষ পাল দেবু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান দিদার, নুরুল আজিম রনি, সাইফুল আলম লিমন, জহির উদ্দিন বাবর, নিষিদ্ধ নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও জাকারিয়া দস্তগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি, সুভাষ মল্লিক সবুজের নামও আছে তালিকায়।

জুলাই আন্দোলনের সময় প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে হামলা করা সোলায়মান বাদশা, মো. দেলোয়ার, মোহাম্মদ ফিরোজ, এইচ এম মিঠুর নাম তালিকায় আছে। এছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বার্মা সাইফুলের নাম তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতা কিশোর গ্যাং লিডার সাদ্দাম হোসেন ইভান, কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার নামও আছে তালিকায়।

রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় কারাবন্দি ইসকনের সাবেক সংগঠক চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম দুষ্কৃতকারীর তালিকায় উঠেছে। একই তালিকায় আছে কারাবন্দি সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীর নামও।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর