Monday 19 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রুমিন ফারহানার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পর এবার তিনি উলটো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন, সেটির উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি হাতের ভঙ্গি দেখিয়েছি।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “আমার এক কথিত অপরাধের জন্য তিনবার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি কীভাবে এমন একটি প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করব, যারা আগেই পক্ষপাতদুষ্ট?”

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “শোকসভার নামে সমাবেশ করা হচ্ছে, মাইক লাগিয়ে বক্তৃতা দেওয়া হচ্ছে, গরু জবাই করে খাওয়ানো হচ্ছে এবং আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি জানান, সোমবার সকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে রিটার্নিং অফিসার এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক। রোববার রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহানের সই করা এক চিঠিতে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুবকর সরকার সই করা এক চিঠিতে এ অভিযোগ তুলে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বড় ধরনের জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। পরে সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকিমূলক অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মারমুখী আচরণ করেন এবং এতে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর লিংকও অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে জনসভায় বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধ করতে গেলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তার সমর্থকরাও মারমুখী আচরণ করেন।

এর আগে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছে এক মতবিনিময় সভায় রুমিন ফারহানা নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, “আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। আপনাদের ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারাদেশে যেমন ৫ আগস্ট ঘটেছিল, তেমনিভাবে যেকোনো আসনেও ঘটতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের পাশাপাশি তার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর