পিরোজপুর: আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন উচ্চ আদালতের রায়ে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি শুনানি শেষে বাংলাদেশ হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। আজ প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে মাহমুদ হোসেনের নির্বাচন অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাহমুদ হোসেন বলেন, আদালতের রায় ও প্রতীক পাওয়ার মাধ্যমে তার প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া সব অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে আমি যেমন স্বস্তি পেয়েছি, তেমনি আমার সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।’
মাহমুদ হোসেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জানা গেছে, তিনি পিরোজপুর জেলার প্রবীণ সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার ভাতিজা। ২০২৩ সালে ঢাকায় বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকেই তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করে আসছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রিটার্নিং অফিসারের যাচাই-বাছাইয়ে প্রথমে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে এক শতাংশ ভোটার সমর্থনসংক্রান্ত তথ্যের গরমিল দেখিয়ে সেখান থেকেও তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। সর্বশেষ তিনি উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
রায় ও প্রতীক বরাদ্দ প্রসঙ্গে মাহমুদ হোসেন বলেন,‘মহামান্য আদালত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই রায় ও ঘোড়া প্রতীক শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পিরোজপুর-২ আসনের তৃণমূল পর্যায়ের লাখো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে এই জনসমর্থনই বিজয়ে রূপ নেবে।’
উচ্চ আদালতের রায় ও প্রতীক বরাদ্দের পর পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।