ফরিদপুর: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন, ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতি।
বুধবার(২১ জানুয়ারি) বিকালে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাৎকালে এমন মন্তব্য করেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
এর আগে, নাসিরুল ইসলামের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন আসনটির অন্য এক প্রার্থী। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিলে বৈধভাবে প্রার্থীতা ফিরে পান বিএনপির প্রার্থী।
প্রতীক বরাদ্দের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর-৩ আসনের দলটির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম। প্রতীক বরাদ্দ শেষে বিএনপির তিনজন প্রার্থীই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে আমার ফরিদপুর-১ আসনটি একটু ব্যতিক্রম। আপনারা দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম দেখেছেন, আজকেও আমাকে হাইকোর্টের মাধ্যমে ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য চক্রান্ত করা হয়েছিল, রিট করা হয়েছিল।’
তিনি তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহর অশেষ রহমতে সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে, আমাদের প্রিয় অভিভাবক ও আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে আজকে আমি ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ করলাম।’
এসময় তিনি সবার দোয়া চেয়ে চারটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীক কে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
নাসিরুলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরে আরেক প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘উনি (খন্দকার নাসিরুল ইসলাম) যেটা বলেছেন সেটা আমাদের ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উনাকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং নানান ষড়যন্ত্র ও চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ধানের শীষ পেয়েছেন। এছাড়া সর্বশেষ আদালতে বিজয়ী হয়ে এসেছেন।’
জানা যায়, বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন আসনটির অন্য প্রার্থী জাতীয় ঐক্যজোটের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। পরবর্তীতে তার এই আবেদন খারিজ করে খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর শারীরিক অসুস্থজনিত কারণ দেখিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন আবেদনকারী প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং চারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।