লালমনিরহাট: লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে নির্বাচনি গণসংযোগকে কেন্দ্র করে হাতীবান্ধায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত কর্মীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা বাজারের পার্শ্ববর্তী কসাইটারি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে হাতীবান্ধা বাজারের পার্শ্ববর্তী কসাইটারি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক দুটি দল। প্রচারণা চলাকালে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াতের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে রাস্তার পাশে থাকা অন্তত ৪-৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় দুই দলই একে অপরকে দায়ী করছেন। বিএনপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় জামায়াত কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের কর্মীদের আহত করেছে। অপর দিকে জামায়াতের দাবি করছে বিএনপির কর্মীরা আগে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে তাদের প্রচারণায় বাধা দেয় এবং মোটর সাইকেল ভাঙচুর শুরু করে।
খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাতীবান্ধা বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার এবং পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কর্মীদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ দলের প্রচারণা ও কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে এমন কোনো কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৮ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪১
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৮ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪১
সারাবাংলা/এসএস