রংপুর: রংপুর মহানগর যুবদলের তিন শীর্ষ নেতাকে শোকজ করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর পক্ষে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষে সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই শোকজ জারি করা হয়।
অভিযুক্ত নেতাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং নির্বাচনি প্রস্তুতির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
শোকজ পাওয়া নেতারা হলেন- রংপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মো. নুরন্নবী চৌধুরী মিলন, সদস্য সচিব মো. আতিকুল ইসলাম লেলিন এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন।
শোকজে বলা হয়েছে, রংপুর-৩ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর পক্ষে নির্বাচনি কার্যক্রমে তারা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সারা দেশে প্রচার জোরদার করেছে। রংপুরে বিএনপির প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, শোকজের কাগজ দেখেই আমি ধানের শীষের প্রার্থী ও মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক সামু ভাইকে কল দিয়েছি। উনি নিজেও এই বিষয়ে জানেন না। আমি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী গঙ্গাচড়ায় প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছি। সামু ভাইয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।
রংপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নুরন্নবী চৌধুরী মিলন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কী কারণে আমাকে শোকজ দেওয়া হয়েছে, তা আমি নিজেও জানি না। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রচারে অংশ নিয়েছি এবং এখনও মাঠে আছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে কথা বলব। আমার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আছে।’
রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘আমি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। কারও বিরুদ্ধে কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করিনি। যুবদলের তিনজনকে শোকজ করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে তা আমার জানার বাইরে।’