Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শরীয়তপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ১২

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৭

শরীয়তপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় দলের অন্তত ১২জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্র জানায়, স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেত্রী না ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন জামায়াতের আরেক সমর্থক। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে পাইলট মোড় এলাকায় বিএনপির পক্ষে ভোট চাইতে গেলে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাহেদ নজরুল ইসলাম সঙ্গে ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় সবুজ মাদবর নামের এক যুবদল নেতার। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পালটাপালটি অভিযোগ করেছে উভয় পক্ষ। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আহত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার বলেন, আমাদের এক স্থানীয় নেতার সাথে জামায়াতের ঝামেলা হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। হঠাৎ ২০-৩০ টি মোটরসাইকেলে জামায়াত ও শিবিরের লোকজন এসে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা গুরুতর আহত হয়েছি। এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই।

আহত জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবর বলেন, আমরা প্রচার লিফলেট বিলি করে পাইলট মোড়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন জামায়াতের লোকজন এসে ঝামেলা শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা চাই তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

আহত জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, আমরা প্রচার শেষে জামায়াত নেতা কাহেদ নজরুল ইসলামের দোকানে অবস্থান করছিলাম। তখন বিএনপি নিক্সন খানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক এসে আমাদের হুমকিধামকি দিতে থাকে। আমি ভিডিও করলে তারা হামলা শুরু করে। বিএনপি লোকজন পেশিশক্তির প্রভাব দেখাতে চাচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করি।

বিষয়টি নিয়ে নড়িয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। এই ঘটনায় দুপক্ষের থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নড়িয়া উপজেলা কমিশনার ভূমি লাকি দাস। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খবর পেয়েছিলাম ভোজেশ্বর বাজারে জামায়াতের কোনো কর্মীকে আটকে রেখেছে বিএনপির লোকজন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছিলাম। তখনি দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর