খুলনা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজনৈতিক সহিংসতা, অস্ত্রের ব্যবহার ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করছে এবং অর্থের বিনিময়ে এ সব অস্ত্রধারীরা দল-বদল করছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ও শরাফপুর এবং ফুলতলা উপজেলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকির মাধ্যমে ভোটের রায় কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা হুমকি দিয়ে ক্ষমতায় গেছে, তাদের যে পরিণতি হয়েছে আপনাদেরও সেই পরিণতি হবে।’
তিনি চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ার কারণে বিএনপির কর্মী পরিচয়ে মানুষকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।’
এ ছাড়াও অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার উদাহরণ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনের মোড়ে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, লাশের ওপর নাচানাচি হয়েছিল সেই ছবিও দেশবাসী দেখেছে।’
একইসঙ্গে তিনি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাফেজ রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘ভোটের আগেই যদি একজন দলীয় নেতাকে তারা পিটিয়ে মারতে পারে, তাহলে ক্ষমতায় গেলে কী করবে সেটা সহজেই বোঝা যায়।’
এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে এমন প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমপি বানাবেন এমন কাউকে, যে ঢাকা-লন্ডন গিয়ে হারিয়ে যাবে না, যিনি এখানকার মানুষের পাশে থাকবেন।’
তিনি দেশকে সহিংস রাজনীতির হাত থেকে রক্ষার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ ও ভয়মুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মুখতার হুসাইন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, ঢাকাস্থ খুলনা সমিতির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বিশ্বাস, খুলনা জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মোমিনুর রহমান, মাগুরখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সোবহান, মো. সোহরাব হোসেন, মো. মোসলেম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের প্রমুখ।