বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলার একটি ভোট কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের দুই নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- জামায়াত সমর্থিত সাব্বির (২৪), আরিফ (২৩), তরিকুল (২৮), হাফিজুর (৩২), সাইফুল (২৭), সোবাহান (৩০), কামরুল (৩৫), নাজমা বেগম (৫০), ফরিদা বেগম (৫২) ও নাজমুল (২৬), বিএনপি সমর্থিত সিদ্দিক (৪০), বাদল (২৯), রফিকুল (২৮), মিজান (৩২) ও ফারুক (৪৮)।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, নির্বাচনি সংঘর্ষে আহত হয়ে ১৫ জন হাসপাতালে আসেন। এদের মধ্যে ১০ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সোনাতলা ভোটকেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরত্বে প্রথমে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ ১৫ জন আহত হন।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, আমাদের ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার উদ্দেশে কেন্দ্রে রওনা হন। তারা সোনাতলা গ্রামের হাবিব মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিএনপির ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী-সমর্থক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের (জামায়াত) নারী-পুরুষ ভোটারদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের দুই নারী ভোটারসহ ১০ জন আহত হন। এছাড়া আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে বিএনপি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভোটারদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের দলের (বিএনপি) পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষ বসে মীমাংসা করা হবে।
জামায়াতের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বিএনপির সভাপতি আনোয়ার পঞ্চায়েত আরও বলেন, সোনাতলা গ্রামের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উপজেলার সমস্ত কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটারের উপিস্থিতিও ভালো। আর কোথাও যাতে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সামিনুল হক বলেন, সকালে সোনাতলা কেন্দ্র থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষের ভোটারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এতে ভোট প্রদান বা কেন্দ্রে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।