Sunday 01 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দাদি-নাতনির হত্যা রহস্য উদঘাটন
চাচার লালসার শিকার ভাতিজি, বাধা দেওয়ায় নিজের খালাকেও হত্যা!

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
১ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪০ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪৮

পাবনায় দাদি-নাতনিকে হত্যাকারী ঘাতক শরিফুল। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা: দেখতে সুন্দর আর দাদির সঙ্গে একা বসবাসের কারণে বাবার আপন খালাতো ভাই শরিফুল ইসলামের কু-নজরে পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদীতে খুন হওয়া কিশোরী জামিলা (১৫) খাতুন। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণ চেষ্টার অংশ হিসেবে জামিলার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে শরিফুল। এ সময় বাধা দেওয়ায় জামিলার দাদি ও ঘাতক শরিফুলের খালা বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে (৬৫) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এর পর জামিলাকে মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের সরিষা খেতে নিয়ে যায়। এর মধ্যেই জামিলার মৃত্যু হয়। পরে মৃতদেহই ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় ঘাতক শরিফুল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের একদিন পর রোববার (১ মার্চ) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।

বিজ্ঞাপন

ঘাতক শরিফুল ইসলাম (৩৫) ঈশ্বরদীর কালিকাপুরের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং নিহত সুফিয়া খাতুনের বড় বোন কুরশি খাতুনের ছেলে। পেশায় ট্রাক চালক এবং মাদকাসক্ত ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, কয়েকদিন ধরে খালা সুফিয়া খাতুন ও জামিলা খাতুনের সঙ্গে আসামির আচরণ এবং প্রতিবেশীর তথ্যের ভিত্তিতে তাকে প্রাথমিকভাবে আটক করা। পরে জিজ্ঞাসাবাসে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ আসর তাদের ভবানীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ঘাতক শরিফুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সুফিয়া খাতুনের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার মধ্যরাতেই ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে দাদির রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির গেটে এবং নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ বাড়ির পাশের সরিষার খেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের আত্মায়-স্বজনরা জানান, জামিলা খাতুনের বাবার সঙ্গে মায়ের অনেক আগেই ডিভোর্স হয়েছে। তিন বোনের মধ্যে জামিলা সবার ছোট। ছোট থেকেই জামিলা দাদির সঙ্গে থাকতো। বাবা জয়নাল খা বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়িতে দাদি সুফিয়া খাতুন এবং নাতনি জামিলা একাই থাকতেন। জামিলা কোরআনের হাফিজিয়া পড়ার পাশাপাশি একটি দাখিল মাদরাসায় ৯ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর