রংপুর: ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাবল ওয়ানের অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রংপুর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২ মার্চ) মধ্যরাতে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় প্রতিষ্ঠানের জিএম রায়হান আহম্মেদ পরাগ মামলা দায়েরের আবেদন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা কামাল কাছনা এলাকায় যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিবকে ফিডার নিয়োগ না করলে পরাগসহ পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর জেলায় সমস্ত সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে ঘোষণা স্থগিত করে আজ সকাল থেকে সেবা পুনরায় চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
ভুক্তভোগী রায়হান আহম্মেদ পরাগ জানান, রংপুর সদরের স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘ক্যাবল ওয়ান’ দীর্ঘদিন ধরে রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ফিডারের মাধ্যমে ডিস লাইন ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানের জিএম রায়হান আহম্মেদ পরাগের দায়ের করা এজাহার অনুসারে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে রংপুর সদর উপজেলার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় তাদের বৈধ ডিস ক্যাবল লাইন অবৈধভাবে কেটে দেওয়া হয়। এতে ওই এলাকার অসংখ্য গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকার ফিড অপারেটর হারুনের স্ত্রী রেবেকা হারুন রংপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। কামাল কাছনা এলাকায় তাদের বৈধ ডিস ক্যাবল লাইন অবৈধভাবে যারা কেটেছে তাদের সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য উপস্থাপন করেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় তামজিদুর রশিদ গালিবের নির্দেশে এবং আকিবুল রহমান মনুর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী ‘ক্যাবল ওয়ান’ অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা পরাগের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং অফিসের ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করে।

এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, “হামলার পর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, আগামীকালের মধ্যে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ না করলে পরাগের বাসায় ঢুকে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করা হবে। এই হুমকি সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানের জিএম রায়হান আহম্মেদ পরাগ বলেন, “সন্ত্রাসীরা অফিসে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি বলেন, “এঘটনায় মামলা দায়েরের আবেদন করেছি। মামলা দায়ের নথিভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছেন পুলিশ।”
এ ঘটনায় রংপুরের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে কামাল কাছনা এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে সেবা বন্ধ থাকায়। এক গ্রাহক মেহেদি হাসান বাঁধন বলেন, “দুর্বৃত্তরা আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। অতি শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
আরও পড়ুন- ক্যাবল ব্যবসায় মালিকানার ভাগ চেয়ে হত্যার হুমকি, বহিষ্কার রংপুর যুবদলের ২ নেতা
রোববার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, “গতকালই হুমকির ভিডিও পেয়েছি। ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু অফিস তালাবদ্ধ ছিল।
আজ সকালে ওসি জানান, “মামলা দায়েরের বিষয়টি কিছুক্ষণ পর জানানো হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত তামজিদুর রশিদ গালিব বলেন, “অভিযোগকারীরা ২০১৫ সালের অবরোধে তারা আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। আগে আমি এই লাইন পরিচালনা করতাম, এখন তা আদায় করতে চাই।”
এদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গালিব ও আকিবুল রহমান মনুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে। যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তাদের অপকর্মের দায় দল নেবে না। নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে— ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে এ ঘটনা রংপুরে ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান, যাতে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরে আসে।