সাতক্ষীরা: পবিত্র রমজান মাসে সাতক্ষীরায় টিসিবির পণ্য বিতরণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। ইফতারের ঠিক আগে পণ্য দেওয়ার কারণে ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এ ছাড়া, পণ্য সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ পণ্য নিতে পারছে না। কয়েকজন ডিলার পণ্য সঠিক সময়ে বিতরণ না করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ লাইনে ক্রেতারা দাঁড়িয়ে পণ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যাতে সুবিধা পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও দেখা যায়, টিসিবি ট্রাকে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের মজুত সীমিত। এক প্যাকেজে পাঁচ ধরনের পণ্য মিলে খরচ হয় ৫৯০ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় কম। এই সাশ্রয়ের জন্যই মানুষ রোদ-বৃষ্টির মধ্যে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা জানিয়েছেন, ‘ইফতারের আগে এসে দাঁড়ালেও অনেকেই পণ্য নিতে পারছে না। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ফিরে যেতে হয়। পরে কোনো কোনো ডিলার সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করছে।’
রাশিদা খাতুন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও পণ্য না নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। পণ্য কম হওয়ায় সবাই হুড়োহুড়ি করছে, এতে মানুষের আহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।’
মো. বায়েজীদ হাসান নামে আরেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, ‘একাধিক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, টিসিবি পণ্য পরে কালোবাজারিতে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের আগে পণ্য নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিকাল ৫টার পর পণ্য দেওয়া হলেও অনেক মানুষ তা নিতে পারছে না।’
ক্রেতারা এই অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও এমপিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে টিসিবি ডিলার হারুন খান জানিয়েছেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী পণ্য বিতরণ করছি।’
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ‘এই বিষয়টি জেনেছি। খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’