রংপুর: রংপুরে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির মামলায় জামিন পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব দাবি করেছেন, গত ১ মার্চ ক্যাবল ওয়ান অফিসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমি পরবর্তীতে ঘটনা ফেসবুকে দেখেছি কিন্তু আমি ওই ঘটনায় উপস্থিত ছিলাম না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে আমাকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছে। তবুও আমি ক্যাবল ওয়ান অফিসে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এছাড়া এসব ঘটনায় আমার দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এজন্য আমি দলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
নগরীর কামাল কামনায় নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গালিব আরও বলেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক কাউন্সিলার হারুন অর রশিদ ওরফে ‘কানা হারুন’ (বর্তমানে কারাগারে) তাকে একাধিক মামলায় হয়রানি করে জেলে পাঠিয়ে কামাল কাছনা এলাকার ডিশ-ইন্টারনেট ব্যাবসা অবৈধভাবে দখল করেন। এতে তার বিপুল লোকসান হয়। জুলাই বিপ্লবের পর বৈধ ব্যাবসা ফিরে পেতে ক্যাবল ওয়ানের মালিক মহানগর যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টালবাহানা করেন। উলটো একজনকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে তার বিরুদ্ধে লাইন কাটার অভিযোগ তুলে সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আমাদের ঘামে ঝরা ব্যাবসা গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নেতারা দখল করে নিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু যারা জুলাইয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে দেশবাসীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের পুলিশ গ্রেফতার না করে রংপুরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
তিনি ওই ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান এবং যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তার বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, ২৩ ফেব্রুয়ারি কামাল কাছনা এলাকায় ডিশ লাইন কাটার অভিযোগ ওঠে গালিবের বিরুদ্ধে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হারুনের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করেন। এর জেরে ১ মার্চ (রোববার) সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ ১৫-২০ জন ল্যাপটপসহ সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন, ব্যবস্থাপক পরাগকে মারধর করেন এবং জিএম কাফিকে ফোনে বলেন, ‘আজকের মধ্যে হারুনকে বাদ দিয়ে গালিবকে ফিড না দিলে বাসায় ঢুকে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে হত্যা করব।’ এতে রংপুরে সংযোগ বন্ধ হয়, শতাধিক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন।
ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা করে। র্যাব-১৩ ও ডিবি সোমবার রাতে গালিব ও জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আদালত ৫০০ টাকা বন্ডে তাদের জামিন দেন। ঘটনার পর যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি মনু ও গালিবকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করে।
পরদিন রাতে রংপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন, (৪৪) এবং জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব (৪৩)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন দুপুরে ৫০০ টাকা করে পৃথক বন্ডে চার্জশিট দাখিলের দিন পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কোতোয়ালি) আমলি আদালতের বিচারক রাশেদ হোসাইন।