রাজবাড়ী: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র ১ মাসের মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজনৈতিক কোনো বিবেচনা বা বাছবিচারের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি। এটা সর্বজনীনভাবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা ৪ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং পর্যায়ে উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার কথার রাজনীতি করে না, বরং কথাকে কাজে রূপ দেয়। তিনি কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলেছিলেন। ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ লাখ মানুষের উপকারে এসেছে। কৃষির উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী খালখনন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। ভবিষ্যতে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কৃষক কার্ড চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া রমজান উপলক্ষ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ের পুরোহিতদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার জনবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং বেকারত্ব কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি, নদ-নদী, জলাভূমি ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়াসহ পুরো এশিয়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ বক্তব্য দেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাঁদ আলী খান, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাজা, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাফর আলী মিয়া, উপকারভোগী শাহানা খাতুন, মোছা. রহিমা খাতুন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক।
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য প্রথম ধাপে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝিকড়ি গ্রামের ১ হাজার ৮২৬টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি দেওয়ার পর ১ হাজার ৪০৪ জন কনফার্ম হয়েছে। বাকিগুলো ত্রুটির কারণে হয়তো বাদ পড়েছে। ঈদের আগে ১ হাজার ৪০৪ জনের মধ্যে ১২০১ জন টাকা পাবে। বাকি ২০৩ জনে কারিগরি জটিলতার কারণে আটকে গেছে। জটিলতা কেটে গেলে তারাও টাকা পাবে।