কক্সবাজার: জেলার পেকুয়া উপজেলায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিদা বেগম (২৮) একই এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের স্ত্রী। তিনি সদর ইউনিয়নের আন্নর আলী মাতবরপাড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির শব্দ শোনা যায়। বাড়ির চারপাশে পাকা দেয়াল ও গেট বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। জুমার নামাজের পর তাদের ৫ বছর বয়সী পালিত কন্যা মাহির কান্নাকাটি শুনে স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শাহিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা বদিউল আলম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করতেন মকসুদ আহমদ। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রায়ই শাহিদাকে মারধর করতেন। শুক্রবার সকালেও মারধরের একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে স্বামী পালিয়ে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের পর গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে সহায়তা করেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী মকসুদ আহমদ পলাতক রয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খাইরুল আলম। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।