রাজবাড়ী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা ঋণের বোঝায় ন্যুব্জ। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসব এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ আর করব না।
রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকের সৌজন্যে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার করছি। এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর বিভাগ, শুল্ক বিভাগ ও মূল্য সংযোজন কর, এই তিনটি খাতে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি যে, পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি ছিল এবং এসআরও-র মাধ্যমে বিশেষ গোষ্ঠীকে লাভবান করা হতো। আমরা অপচয়, কর জালিয়াতি ও কর পরিহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য ভিত্তির কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে টাস্কফোর্সগুলো কাজ করছে। আমরা আগামী বাজেটে পথনকশা দেখাব যে, আমাদের কর-জিডিপি হার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে নিয়ে যাব। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীতেও সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। কারণ তারা ঋণের মচ্ছব করেছে। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ করব।
উপদেষ্টা বলেন, কর পরিহার, কর জালিয়াতি এবং বিভিন্ন প্রকার ফন্দিফিকির বন্ধ করা হবে, ফলে শেষ প্রান্তিকে আমাদের কর সংগ্রহের পরিমাণ বেড়ে যাবে। আমরা দেখিয়ে দেব যে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়িয়ে, ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং বিদেশি উচ্চ সুদের ঋণ থেকে মুক্ত হয়েও সম্পদ সংগ্রহ করা যায়। আমাদের সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি— যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং অন্যান্য সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে এবং দিনদিন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন ব্যয় অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম পিন্টু।