কুষ্টিয়া: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে চালক ও হেলপারসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করে। পথে বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তুলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছে। এসময় ফেরিতে উঠতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাসটিতে মোট ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে কুমারখালী থেকে ৬ জন, খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন যাত্রী ওঠেন।
তিনি আরো জানান, কুমারখালী থেকে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজরা হলেন- আয়েশা বিনতে গিয়াস (১২), আয়েশা আক্তার (৩০) ও ৭ মাস বয়সী শিশু আরশান।
গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭), ছেলে আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও মেয়ে আয়েশা বিনতে গিয়াস (১২) একসঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আয়েশা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। গিয়াস উদ্দিন ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং তার বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর এলাকায়।
অন্যদিকে মো. নুরুজ্জামান সাহেদ (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০), মেয়ে নাওয়ার আক্তার (৪) ও ৭ মাস বয়সী শিশু আরশানও একই বাসে ছিলেন। এ পরিবারের মধ্যে আয়েশা আক্তার ও শিশু আরশান নিখোঁজ রয়েছেন। সাহেদ ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায়।
কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, কুমারখালী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।