কক্সবাজার: জেলার চকরিয়ায় একটি বন্যহাতিকে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর অস্থায়ী ঘর নির্মাণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বনবিভাগের টহল দল ঘটনাটি উদ্ঘাটন করে।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মাকাটার ঘোনা সংলগ্ন বনভূমিতে প্রায় এক মাস আগে হাতিটিকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে বনের ভেতরে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর একটি ছোট কাঁচা ঘর নির্মাণ করা হয়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বনবিভাগের নলবিলা বিটের টহল দল গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই ঘরটি শনাক্ত করে। পরে সেখানে খনন করে হাতিটির কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে একই দিন দুপুরে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা, চকরিয়া থানা পুলিশ, লামা উপজেলার ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ি এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনসহ প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। উপস্থিত লোকজনের সামনেই হাতিটির ময়নাতদন্ত ও আলামত সংগ্রহ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধারণা, পাহাড়ি এলাকায় আবাদি জমির ফসল নষ্ট করার কারণে হাতিটিকে বাধা হিসেবে দেখেই দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাসিয়াখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
বন কর্মকর্তারা জানান, হাতি হত্যার পর এভাবে মাটিচাপা দিয়ে ওপরের অংশে ঘর নির্মাণ করে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চকরিয়ায় এই প্রথম। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে বনবিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।