Sunday 29 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যমুনা অয়েল কোম্পানির তথ্যে গরমিল, ব্যবস্থাপক বরখাস্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৪

ছবি: সংগৃহীত।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড ও নৌ বাহিনী। অভিযান চলাকালীন যমুনা অয়েল কোম্পানির মজুত করা তেলের পরিমাণে গরমিল থাকায় ডিপোর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আল আমিন খান কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার(২৯ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের রাত ১টায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এর সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের তিনটি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল পাওয়া যায়।

কাগজপত্রে দেখা যায়, ১ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার, যা কাগজপত্রে উল্লেখ করা পরিমাণের তুলনায় ৯৩২ লিটার বেশি। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, যা নথিভুক্ত পরিমাণের চেয়ে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি। অন্যদিকে ১৪ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যা কাগজপত্রের তুলনায় ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের হিসাবে গরমিল পেয়েছে প্রশাসন।

কোম্পানির দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা জানান, তেলের পরিমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি দেখিয়ে পরবর্তী সময় চুরির সুযোগ তৈরি করা হয়, এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

অভিযানের সময় ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আল আমিন খানের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্টক রেজিস্টার ও নথিপত্র উপস্থাপন করেন। পরে, মেজারিং টেপ ব্যবহার করে তিনটি ট্যাংকের তেলের পরিমাণ সরাসরি পরিমাপ করা হয় এবং তা নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস বলেন, এ ঘটনায় আমরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বরাবর একটি প্রতিবেদন দিয়েছি। বিপিসি কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে পরবর্তী সব ব্যবস্থা নেবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় অঙ্কের গরমিল স্বাভাবিক পরিমাপ ত্রুটির মধ্যে পড়ে না। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আল আমিন খানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর