রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস ডুবির ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস এবং রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা।
ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কারোর কোনো নিখোঁজের দাবি না থাকায় এই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। বাস ডুবির ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান চালিয়েও আর কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানান ইউএনও।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
এ ঘটনায় কয়েকজন সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় তীরে উঠলেও বেশিরভাগ যাত্রীই ডুবে যায়। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা পর ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে টেনে তোলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। চালক আরমানের মরদেহসহ একে একে ২৬টি মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রেজিষ্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।