গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের চকচকিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে আলিম (১৩) নামে এক শিশুকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। মাথার হাড় ভেঙে যাওয়ায় আলিম প্রায় পাঁচ মাস ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ নভেম্বর পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে প্রতিবেশী আজাদুল ইসলামের ভাতিজা রুবেল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলিমকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে ডেকে নেয়। সেখানে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
শিশুটির পিতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই আমার ছেলেকে এভাবে হামলা করা হয়েছে। আমরা শুধু ছেলের সুস্থতা এবং অপরাধীদের শাস্তি চাই।’
পরিবারের দাবি, সন্তানের চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। পরে মামলা করতে গেলে পুলিশ গ্রহণ করেনি। অবশেষে ঘটনার প্রায় তিন মাস পর শিশুটির মা আরিফা বেগম বাদী হয়ে সাঘাটা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে পিবিআই পুলিশ তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি আজাদুল ইসলাম স্বীকার করেন যে তার ভাতিজার ব্যাটের আঘাতে আলিম আহত হয়েছে, তবে শত্রুতার কারণে নয়। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসার জন্য তারা সহযোগিতা করেছেন। তবে শিশুর পরিবার অভিযোগ করে জানায়, চিকিৎসায় অন্তত পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে একটি নিরীহ শিশুর ওপর এমন নৃশংস হামলা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।