Tuesday 28 Apr 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

টাঙ্গাইলে ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা শুরু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৩২

টাঙ্গাইল: সদর উপজেলার রসুলপুরে শুরু হয়েছে প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’। বাছিরন নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শনিবার (২৫ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ ৩দিনব্যাপী মেলা চলবে সোমবার পর্যন্ত।

মেলা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আয়োজক ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, তিন দিনে এ মেলায় দুই কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য হবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে মেলায় বসেছে শতাধিক দোকান। খেলনা, প্রসাধনী, কাঠের ফার্নিচার, মিষ্টি ও নানা খাবারের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বৈশাখের ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে মেলায় জামাই-বউসহ হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ রসুলপুরে এই মেলা বসে। প্রায় ১৫০ বছর ধরে চলে আসা এ মেলাকে ঘিরে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাদের ঘিরেই মেলার মূল আকর্ষণ তৈরি হয়।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, মেলার সময় শাশুড়িরা জামাইদের হাতে টাকা তুলে দেন। সেই টাকা দিয়ে জামাইরা মেলা থেকে শ্বশুরবাড়ির সবার জন্য কেনাকাটা করেন। এ থেকেই মেলাটির নাম হয়েছে ‘জামাই মেলা’।

মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরই তারা এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। অন্য মেলার তুলনায় এখানে বিক্রি বেশি হয় বলে জানান তারা। জিলাপি বিক্রেতা নুরু মিয়া বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই মেলায় ব্যবসা করছি। এখানে ক্রেতা বেশি থাকায় বিক্রি ভালো হয়।”

দর্শনার্থী জুয়েল রানা বলেন, “এই মেলাটি জামাইদের মিলনমেলা। প্রতিবছর এখানে আসতে পারাটা আনন্দের।”

কলেজছাত্রী বিথী আক্তার বলেন, “এটি শুধু একটি মেলা নয়, এলাকার মানুষের কাছে বড় একটি উৎসব। বৈশাখী মেলা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত।”

স্থানীয় রফিক মিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মেলার কথা শুনে আসছেন। এটি টাঙ্গাইলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মেলা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মেলায় ঘুরতে আসা জামাই রুহুল আমিন বলেন, “প্রতিবছর শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়, ভালো সময় কাটে।”

টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, মেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন রয়েছে।

মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসব মুখর পরিবেশে মেলা শুরু হয়েছে।মেলা সফল করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। তারা খাবারের দোকান, মিষ্টিজাতীয় পণ্যের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনীর দোকানও দিয়েছেন মেলায়। এ ছাড়াও মেলায় একাধিক ফার্নিচারের দোকানও বসেছে। তিন দিনে মেলায় দুই কোটি টাকার উপরে  বাণিজ্য হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর