কক্সবাজার: কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ মাস বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশে হামের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এতে করে গত এক মাসে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জনে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ।
মৃত শিশুটির নাম নুর ফাহাদ। সে উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর ফয়সালের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (২ মে) দুপুরে জ্বর, কাশি ও নিউমোনিয়াসহ জটিল উপসর্গ নিয়ে নুর ফাহাদকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল এখনও হাতে না আসায় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না শিশুটি হামে আক্রান্ত ছিল কি না। তবে তার উপসর্গগুলো হামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
ডা. শান্তনু ঘোষের ভাষ্য, ‘হাসপাতালে আনার সময়ই শিশুটির অবস্থা গুরুতর ছিল। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১০ শিশুই স্থানীয় বাসিন্দা ছিল। তাদের মধ্যে রামু উপজেলায় ৪ জন, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২ জন এবং কক্সবাজার পৌরসভা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও উখিয়ায় একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪ জন। বর্তমানে জেলার আটটি হাসপাতালে ১৩২ জন শিশু একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া গত ২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৩৪৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।