পঞ্চগড়: মাথার ওপর প্রখর রোদ, নদীর পাড়ে মানুষের ভিড়। কেউ বালতি হাতে ছুটছেন, কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ কাঁধে ভাঁড় নিয়ে পানি সংগ্রহে ব্যস্ত। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত নদী মহানন্দার পাড়ের রোজকার চিত্র এটি। পানি সংগ্রহের এই লড়াই নতুন নয়, তবে দিন দিন তা হয়ে উঠছে আরও কঠিন।
সিদ্দিক নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ৬ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানি সংকটের কারণে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। সরকারি ভাবে অনেক দেন দরবার করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতির আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন।
পঞ্চগড়ের সদর ও তেঁতুলিয়ার অনেক গ্রামে এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম পানি। একসময় যে পুকুরের পানি মানুষ ব্যবহার করতেন দৈনন্দিন কাজে, সেই পুকুর আজ পরিত্যক্ত। বাড়ির উঠানের নলকূপে পানি ওঠে না। যে গভীর নলকূপ দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া হয়, সেই নলকূপে কখনও পানি পাওয়া যায়, কখনও যায় না। এতে অনেক এলাকায় খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজোত, ঈদগাবস্তী ও পুরাতন বাজারসহ অন্তত ৬ টি গ্রামের টিউবওয়েলগুলো অচল হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা সদর উপজেলার নদীবেষ্টিত রাজা পাড়ের ডাঙা ও মীরগড় এলাকাতেও। ফলে বাসিন্দারা নির্ভর করছে সীমান্তের শূন্য রেখায় মহানন্দা নদীর তীরে সরকারিভাবে স্থাপিত একটিমাত্র টিউবওয়েলের ওপর।
গত ৭ বছর ধরে মহানন্দা পাড়ে অবস্থিত ৬টি গ্রামের মানুষের একমাত্র পানির উৎস এই একটিমাত্র টিউবওয়েল। সকাল থেকে এসব গ্রামের মানুষ লাইন ধরে এখান থেকে পানি সংগ্রহ করলেও সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি কাউকে ঢুকতে দেয় না। ফলে খাবার পানিসহ গৃহস্থালি কাজের জন্যে পানির সংকট এখানে ভয়াবহ। বিশেষ করে রমজান মাসে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
দিনের বেলা পুরুষ এবং শিশুরা মহানন্দা নদীতে গোসল করলেও নারীরা তাদের গোসলসহ বাড়ির কাজ পানির অভাবে করতে পারে না। এলাকাবাসী বলেন, সরকারিভাবে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি সরবরাহ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য এরই মধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া, সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনসহ কৃষি জমিতে ভারী সেচ পাম্প স্থাপনের কারণে পানির স্বাভাবিক স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ। বিষয়টি নিরসনে কমিউনিটি ভিত্তিক সাবমার্সেবল পাম্প অথবা তারা পাম্প স্থাপনের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে সাবমার্সেবল পাম্পের জন্য আবেদন করা হয়েছে।