সুনামগঞ্জ: ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় পাহাড়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার সতর্কবার্তা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ ঘোষণায় মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাওড় অঞ্চলের হাজারও বোরো ধান চাষি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর থেকে এরইমধ্যে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ফলে কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়াই কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, রোববার (২৬ এপ্রিল ) থেকে সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জের সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জে গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয়ের অবিরাম বৃষ্টিপাত কৃষকের কপালের চিন্তার ভাঁজকে বিস্তৃত করছে। হাওড়ের কৃষকেরা দ্রুত ধান কেটে আনলেও সেই ধান মাড়াই কিংবা শুকানো নিয়ে শঙ্কা বাড়ছেই।
করচার হাওড়ের কৃষক রঞ্জিত দাস বলেন, ‘হাওড়ের ধান কাটতে পারলেও সেই ধান শুকাতে পারছি না বৃষ্টির কারণে। তার মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন সতর্কবার্তায় আমরা অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
মাটিয়ান হাওড়ের কৃষক আব্দুল্লাহ্ মিয়া বলেন, ‘২৬ তারিখ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে হাওড়ের ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য। কিন্তু যেভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, ধান কাটাও এখন আমাদের জন্য বড় কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘সুনামগঞ্জে ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার সকল নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ২.৩১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘এরইমধ্যে হাওড়ের ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি নিরসনে গতকাল রাতেই একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।