Tuesday 09 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুন্দরবনে ৮ জেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৫ মে ২০২৬ ১৫:১৬ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১৮:১০

সুন্দরবন, সাতক্ষীরা রেঞ্জ।

সাতক্ষীরা: সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে আট জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পশ্চিম সুন্দরবনের আওতাধীন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।

অপহৃত জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোটো ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম গাজী (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর রহমান গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

অপহরণকারীদের কবল থেকে কৌশলে ফিরে আসা কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে ওই আটজনকে অপহরণ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে ২০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইলফোন নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করেছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টকা নিতে চেয়েছে।

জেলেদের মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুন্দরবনের অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বরে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেও মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দস্যুদের বিরুদ্ধে। টাকা পরিশোধের পরে অনেককে বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে, গত ৪ ও ৫ মে আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী, নানা ভাই ও ডান বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রধারী বনদস্যুরা সুন্দরবনের গোয়ালবুনিয়া দুনেয়ার মুখ, ধান্যখালি খাল, মামুন্দ নদীর মাথাভাঙ্গা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। পরে তাদের পরিবার ও মহাজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তারা মুক্তি পান।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) খালেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সুন্দরবনের বনজীবী অপহরণের বিষয় এখনও ভুক্তভোগীদের পরিবার বা স্বজনরা তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর