পঞ্চগড়: জেলায় চলতি মৌসুমে উন্নত জাতের বোরো ধানে বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে এবার জেলার অধিকাংশ জমিতেই ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত জাতের ধানে রোগবালাই কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ধানের গাছ সবলভাবে বেড়ে উঠেছে এবং অধিকাংশ জমিতে ফলনের সম্ভাবনা ভালো।
সম্প্রতি পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের ধানবীজ ‘অ্যারাইজ এজেড ৬৪৫৩ এসটি’-এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি বিভাগ ও বীজ কোম্পানির কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি, হালচাষ ও সারের যে দাম, তাতে আগে আমাদের ধানের আবাদে কোনো লাভই থাকত না। কিন্তু এবার আমরা সম্পূর্ণ নতুন জাতের একটা ধান চাষ করেছি। এবার ৩৩ শতকে ১৩-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান পেয়েছি ৩০-৩২ মন। শুধু আমি নই, আমার দেখাদেখি প্রতিবেশী অন্যান্য কৃষকেরাও এই ধান করেছে। মাঠে প্রচুর ফলন হয়েছে।’
আরেক কৃষক শ্রীকান্ত বলেন, ‘এবার ধানের কোনো ব্লাস্ট রোগ নাই, পাতা মোড়ানো বা পাতা পোড়া রোগও আক্রমণ করতে পারে নাই। বীজের অঙ্কুরোদগম থেকে শুরু করে পুরো সময়টায় রোগবালাই একদমই ছিল না। ধানের দামও ভালো উঠছে।’
সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ ভালো হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক সমস্যা দেখা দেয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার বায়ারের উন্নত জাতের এজেড ৬৪৫৩ এসটির বাম্পার ফলন হয়েছে। এ জাতের ধান পোকা-মাকড় ও রোগবালাই মুক্ত। সহজে ঝরে পড়ে না। প্রতিটি গোছা ধানে ভরপুর। প্রতিটি শীষে ২৫০-৩২০ টি ধান থাকে। এই জাত ব্লাস্ট রোগ মুক্ত। ভাত খেতেও সুস্বাদু। প্রতি শতকে ১ মন ধান পাওয়া সম্ভব, যা অন্য জাতের চাইতে অনেক বেশি।’