Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাতক্ষীরায় কোরবানির হাটে নজর কাড়ছে ৭৬ কেজির ছাগল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ মে ২০২৬ ১৬:৪৫

৭৬ কেজি ওজনের ছাগল।

সাতক্ষীরা: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানুষ ভিড় করছে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে। তেমনি সাতক্ষীরায় এবার আলাদাভাবে মানুষের পছন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আমিরুল ইসলামের তিনটি ছাগল। তবে এই ছাগলগুলোকে ঘোড়া বললেও ভুল হবে না। কারণ সাধারণত একটি ছাগলের ওজন হয় ১৫ থেকে ২০ কিন্তু এই ছাগলের ওজন প্রায় ৫৪ থেকে ৭৬ কেজি। প্রতিনিয়ত এই ঘোড়ার মতো ছাগল দেখতে ক্রেতারা ভিড় করছেন খামারে। শুধু ক্রেতা নয় এই ছাগল দেখতে ভিড় করছেন আশেপাশে থাকা এলাকার মানুষরাও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাগালের খামারের ভিতর আলাদা আলাদা রুম। প্রতিটা রুমে রয়েছে বড় বড় ছাগল। যে যার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে এবং খাবার খাওয়ার সময় হলেই খাবার খাচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হয় সেখানে খাবার খাওয়ার কর্মযজ্ঞ তারপর দুপুর হলেই গোসল সেরে আবার শুরু হয় তাদের খাবার দেওয়া। তারপর বিকাল পড়লেই নিজ কক্ষে তাদের ভিড়তে হয়। দেখে মনে হলো এ যেন এক পরিবারের দ্বিতীয় রূপ।

বিজ্ঞাপন

ছাগলের খামারে থাকা কর্মচারী ভরত বলেন, ‘আমরা এই ছাগলগুলোকে নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করেছি। এদের তিন বেলা আমাদের নিজেদের তৈরি খাবার খেতে দেওয়া হয়। ছাগলগুলো ভূসি, সয়াবিন খৈল, পালিশ, কুড়ো ও তাজা ঘাস খায়। এদের একটার নাম সাদা, একটার নাম লালু, একটার নাম কালু। তাদের নাম ধরে ডাকলেই তারা আমাদের কোলে কাছে আসে। আমরা তাদের আদর যত্ন করি।’

আরেক কর্মচারী সুনীল বলেন, ‘আমরা আমিরুল ইসলাম ভাইয়ের খামারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা দেখাশোনা করি। এই তিনটি ছাগল আমরা এই কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত করেছি।’

খামারের মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। আমি ৬ বছর ধরে ছাগলের খামার তৈরি করে ছাগল লালন পালন করছি। প্রতিবছর কোরবানি ঈদে আমার বড় বড় ছাগলের কদর থাকে আলাদা। এবার তিন ছাগল প্রস্তুত করেছি। এরই মধ্যে একটা বিক্রি হয়ে গেছে আরেকটির দাম দর চলছে। আমার এক এক ছাগলের ওজন প্রায় সাদাটা ৭৬ কেজি, লালু ৬৪ কেজি, কালু ৫৪ কেজি। আমরা ছাগলের ওজন মেপে বিক্রি করছি। কেজি প্রতি ৮০০ টাকা দরে এদের দাম ধরা হচ্ছে এবং এই তিনটা ছাগলের পিছনে প্রতিদিন আমার খরচ হয় ৩০০ টাকা। এদের পরিচর্যা করার জন্য সার্বক্ষণিক আমার তিনজন কর্মচারী ওখানে রাখা রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত তাদের দেখাশোনা করেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘লালটা আমার কাছের বন্ধু কোরবানির জন্য কিনেছে। তার বাড়িতে কোরবানি দিবে বলে। আমি তাকে কেজি প্রতি ৭০০ টাকা করে দিয়েছি। তো লালটার দাম আসে ৪০৮০০ টাকা। সাদাটা এক ব্যবসায়ী আমার থেকে কিনছে ৫১৮০০ টাকা দিয়ে। তার কাছেও কেজি প্রতি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।’

ছাগল কিনতে আসা ইসমাইল গাজী বলেন, ‘এই ছাগলের মাংস খেতে খুব সুস্বাদু। ফলে কোরবানির ঈদে এই ছাগলের চাহিদা বেশি। তাই আমরা এই ছাগল কিনতে এসেছি। দাম দর ঠিক হলেই নিয়ে যাবো।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা এফ এম হান্নান কবির জানান, এখন বেশির ভাগ খামারে ক্রস জাতের ছাগল বেশি লালন পালন করছে। কারন এই ছাগলগুলো অনেক বড় হয় পাশাপাশি অনেক দামে বিক্রি করতে পারে। তবে আমিরুল ভাইয়ের ওই ছাগলের খামারে গিয়েছি। অনেক বড় বড় ছাগল। আশাকরি এবার ঈদে সাতক্ষীরাকে মাতাবে ওই ছাগলগুলো। তবে এই ছাগলগুলোর একটু পরিচর্যা করলে ভালো লাভবান হওয়া যাবে। পাশাপাশি আমরা জনসাধারণকে ছাগল পালনে উৎসাহ দিচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর