সিরাজগঞ্জ: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিদ্যুৎ বিভাগে বিপুল বকেয়া ও আর্থিক সংকট রেখে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার দেনা নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ শামসুদ্দিন সম্মেলনকক্ষে শিক্ষা খাতের গুণগত মান উন্নয়নে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘৫৬ হাজার কোটি টাকা দেনা নিয়ে আমি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় চালাই। দেশি-বিদেশি পাওনাদারেরা প্রতিনিয়ত ফোন করে। আদানিও বিলের জন্য ফোন করে। আমাদের সেই বিলের জোগান দিতে হয়। অনেক চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষিত জাতি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি জাতি ওপরে উঠতে পারে, যদি সে জাতির শিক্ষার মান ভালো থাকে। আমরা এবার সরকারে এসে মনস্থির করেছি, আমাদের বাজেটের, জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করব।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং নৈতিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সময়ে চালু হওয়া ‘ফুড ফর এডুকেশন’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া শিক্ষার্থীদের ড্রপ আউট বন্ধে ফুড ফর এডুকেশন চালু করেছিলেন। এর সুফলও পাওয়া গিয়েছিল। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু সেই কর্মসূচির মাধ্যমে স্কুলে ফিরে এসেছিল।’
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
সভায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, প্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।
সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’