Wednesday 27 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের কয়েক জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

সারাবাংলা ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬ ২১:৩৭

দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপনের চিত্র।

বৃষ্টিভেজা সকাল, মসজিদ ও খোলা মাঠে ছোটো ছোটো জামাত, আর ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি—দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন আবহেই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) নীলফামারী, নোয়াখালী, গাইবান্ধা ও সাতক্ষীরার কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়ভাবে ঈদ উদযাপনের এ ঘটনা ঘটেছে। এসব ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

সারাবাংলা প্রতিনিধিরা পাঠিয়েছেন ঈদ উদযাপনের সেসব খবর।

নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার তিনটি এলাকাতেও সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আযহা উদযাপন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে উত্তর বসন্তবাগ মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদ, ফাজিলপুর দায়রা বাড়ী জামে মসজিদ এবং পশ্চিম সাহাপুর রশিদিয়া রহমানিয়া আল কাদেরী দায়রা খানকা শরীফ জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, বড় পীর হযরত আবু মুহাম্মদ মহিউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শে উজ্জীবিত কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন।

উত্তর বসন্তবাগ মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা বদরুল ইসলাম। সেখানে প্রায় ৩০০-৪০০ মুসল্লি অংশ নেন। ফাজিলপুর দায়রা বাড়ী জামে মসজিদে ইমামতি করেন মাওলানা সাইফুর রহমান। ওই জামাতে অংশ নেন প্রায় ২০০-২৫০ জন মুসল্লি।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বপুরুষদের সময় থেকে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি। এই প্রথার ইতিহাস শত বছরেরও বেশি সময়ের।’

সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্রাচার্য বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ছোট পরিসরে আয়োজন করা জামাতগুলোর বিষয়ে অনেক সময় স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন না। বড় ধরনের জামাত হলে সাধারণত প্রশাসনকে জানানো হয়।’

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় সদর উপজেলার ভাদড়া বাউকোলা গ্রামের একটি মসজিদে আহলে হাদিসের কয়েকজনের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

ইসলামকাটি, গোয়ালচত্তর, ভাদড়া, ঘোনা ও মিরগিডাঙ্গাসহ আশপাশের প্রায় ২৫ গ্রামের মুসল্লিরা ওই জামাতে অংশ নেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও জামাতে শরিক হন।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, গত এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করে আসছেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও পশু কোরবানিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।

গাইবান্ধা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সহিহ হাদিস সম্প্রদায়ের ২০-২১ জন মুসল্লি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনের ছাদে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন হাফেজ রেজওয়ান ইসলাম আকন্দ।

সকালের মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা হেঁটে, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান।

নামাজে অংশ নেওয়া রওশনবাগ এলাকার মুসল্লিরা বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়তেই আজ সকালে এখানে এসেছি। সবাই মিলে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করলাম। আমরা এভাবেই ১৬ বছর যাবত ঈদের নামাজ পড়ে আসছি।’

নীলফামারী
এদিন সকালে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের কাকরা চৌপতি এলাকা এবং ডোমার উপজেলার গোমনাতী ফরেস্ট এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এলাকার একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন।

দেশের মূলধারার ঈদ উদযাপনের আগেই কিছু এলাকায় এভাবে আগাম ঈদ পালনের চর্চা বহু বছরের পুরনো। ভিনদেশি চাঁদ দেখার অনুসরণে আয়োজিত ছোটো ছোটো এসব জামাতে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও পারিবারিক ধারাবাহিকতারও প্রতিফলন দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর