Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ জুন ২০২৬ ১০:৪৯ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১০:৫১

দুর্ঘটনার পর ঘাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ শিশু ফাতেমার (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৫টার দিকে দিঘির পূর্ব পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং মাজারের প্রধান খাদেম শেখ তরিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে কুমির ফাতেমাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

নিহত ফাতেমা মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীর মেয়ে। তারা মাজার এলাকাতেই বসবাস করতো।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাতেমাকে গোসল করাতে দিঘিতে নামেন। এ সময় দিঘিতে থাকা কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

শিশুটির চিৎকার শুনে মাজার এলাকায় অবস্থানরত স্থানীয় লোকজন দ্রুত নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাতভর অভিযানে পর ভোর ৫টার দিকে পুকুরের পূর্ব পাশে শিশু ফাতেমার মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।

উদ্ধার করা মরদেহ।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আর কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব।

মাজারের ঘাটের পাশের দোকানদার বিনা আক্তার বলেন, ‘মেয়েটি প্রতিদিনই ওই ঘাটে গোসল করে। আজও গোসলে নেমেছিল, দিঘির ঘাটে পা ফেলতেই কুমিরে ওরে টেনে নিয়ে গেছে। বাঁচার জন্য চিৎকার করেছে। কিন্তু কুমিরের মুখ থেকে ছাড়িয়ে আনার মতো সাহস কারও ছিল না। কুমিরের গায়ে ইট মেরে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও কুমির ফাতেমাকে নিয়ে দিঘির মাঝে নিয়ে গেছে।’

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মাজারের ঐতিহ্য ঠিক রেখে, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাটে ফেন্সিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটির নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটার নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে দীঘিতে ছাড়া হয়; কিন্তু এর কয়েকটা মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটো ছিল, তার একটা ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর থেকে একটি কুমিরই দীঘিতে আছে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর