সিলেট: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে সারাবাংলা ডটনেট। এরই জেরে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি সামছুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) রাতে বড়লেখা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি সামছুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার সামছুল ইসলাম উপজেলার বিওসি কেছরীগুল (মাঠগুদাম) এলাকার মৃত আব্দুস ছবুরের ছেলে। আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, ২৪ মে জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘সারাবাংলা ডটনেট’-এ ‘বড়লেখায় জোড়া খুন: ভিটেমাটি ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানি সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। জনমনে তৈরি হওয়া ব্যাপক প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনের উপর মহলের বিশেষ চাপের মুখে ঘটনার মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে বাধ্য হয় পুলিশ।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বিওসি কেছরীগুল (মাঠগুদাম) গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সামছুল ইসলাম গং স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুম ও তার ভাই জামাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাদের নির্মম মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় গত ২৯ ডিসেম্বর নিহত এক ভাইয়ের স্ত্রী হালিমা বেগম বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে বড়লেখা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে যাযাবর জীবন যাপন করছিল।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান সোমবার বিকেলে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুই ভাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সামছুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে সোমবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সারাবাংলা ডটনেটে ভুক্তভোগী পরিবারের অসহায়ত্ব ও জোড়া খুনের আড়ালের সত্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখায়। গণমাধ্যমের এই সাহসী ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।