রংপুর: জেলার মিঠাপুকুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত মদ পানে পাঁচজনের মৃত্যুর মামলায় ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
রোববার (৭ জুন) মধ্যরাতে ঢাকার আশুলিয়ার একটি নিরিবিলি এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৌশলে ৪ বন্ধুকে বিষাক্ত মদ পান করানোর অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩০ মে রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত মদ পান করেন। এর পরপরই তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ২ জুন মিঠাপুকুর থানায় নিহত সাজু মিয়ার ভাগ্নে জাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন রফিকুল ও শফিকুল। র্যাব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-১৩ এর কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, রফিকুল ও শফিকুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী সাজু মিয়ার পূর্ব শত্রুতা ছিল। মাদক বিক্রয়কে কেন্দ্র করেই এই শত্রুতা তৈরি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে রাত সাড়ে ১১টায় আসামি রফিকুল কৌশলে সাজু মিয়া ও তার তিন বন্ধুকে নিজের মালটা বাগানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অতিরিক্ত মাত্রায় বিষাক্ত মদ পান করানো হয়। পরে সবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতরা হলেন– উপজেলার বুজরুক ঝালাই গ্রামের হুজুর আলী (৪৫), একই গ্রামের এরশাদ আলী (৪০), সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার সাজু মিয়া (৫৫), সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের ছাত্তার মিয়া (৬০) ও দুলা মিয়া (৪৫)।
তাদের মধ্যে সাজু মিয়াসহ ৪জন ১ জুন দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপরজন নিজ বাড়িতেই মারা যান।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতার আসামিদের মিঠাপুকুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাব সজাগ রয়েছে।